কুষ্টিয়ার মিরপুরে মাকে হত্যার দায়ে ছেলেসহ ৩ জন আটক

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ১০:০৯ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় সম্পদের লোভে বন্ধুদের নিয়ে মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় জড়িত ছেলে মুন্না বাবু ও তার দুই বন্ধুকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আটকরা হলেন মৃত ফজল বিশ্বাসের ছেলে মুন্না বাবু, ইয়াসিন মিস্ত্রির ছেলে হোসেন ও মৃত ইনসার বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল কাদের। তাদের সবার বাড়ি মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কাটদহ গ্রামে। গত মঙ্গলবার তাদের আটক করা হয়। আটকদের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে প্রথমে আব্দুল কাদেরকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মমতাজ বেগমের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত বলেন, বন্ধুদের সহযোগিতায় মমতাজ বেগমকে (৫৪) শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ছেলে মুন্না বাবু। হত্যার পর তাকে বাড়ি থেকে ১০ গজ আগে মৃত নূর উদ্দিনের ছেলে রাজার পুকুরের কাদামাটিতে চাপা দেয়।তিনি আরও বলেন, মমতাজ বেগমের ছেলে মুন্না বাবু বন্ধুদের দিয়ে তার বড় দুলাভাই (মমতাজের বড় জামাই) সেকেন্দার আলীর মোবাইল ফোনে কল করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিলে মমতাজের খোঁজ দেওয়া হবে বলে জানায়। এরপর মমতাজ বেগমের বড় জামাই সেকেন্দার আলী জেলা গোয়েন্দা পুলিশে অভিযোগ করেন। ওই মোবাইল নম্বরটির ক্লু ধরে আব্দুল কাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, মুন্না বাবু মাদকাসক্ত ও জুয়াড়ি। সম্পদের লোভে মাকে সে হত্যা করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না বাবু মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রায় এক মাস আগে এ হত্যাকান্ড  সংঘটিত হয়। এরপর অজ্ঞাত পরিচয় কোনো পুরুষের সঙ্গে তার মা চলে গেছেন বলেও গুজব ছড়ায়  ছেলে মুন্না বাবু। এ ঘটনায় সে গত ২৫ জানুয়ারি মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। সেখানে বলা হয়েছিল ২১ জানুয়ারি সকাল থেকে তার মা নিখোঁজ। তিনি আরও বলেন, এর প্রেক্ষিতে গত সোমবার গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মুন্নার বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে খুনের দায় স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে মমতাজের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুষ্টিয়া সদর সার্কেল) মো. আতিকুল ইসলাম, মিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।