পঞ্চপাণ্ডবহীন বাংলাদেশ

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৪:৩৪ পিএম, ০৯ জানুয়ারি ২০২২

বাংলাদেশের ক্রিকেটে ‘পঞ্চপাণ্ডব’ কি যোগীন্দ্রনাথ সরকারের ‘হারাধনের ১০টি ছেলে’ কবিতারই একটি অংশ। যার শুরু হারাধনের পঞ্চম ছেলে থেকে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যে মাশরাফি ইনজুরিতে টেস্ট দলে নেই ২০০৯ সাল থেকেই। পরে বাকি দুই ফরম্যাটেও নিয়েছেন অবসর। দ্বিতীয়জন তামিম ইকবাল ইনজুরির কারণে গত বছর থেকে দলে নেই সাময়িকভাবে। তৃতীয় জন মাহমুদউল্লাহ টেস্ট ক্রিকেটকে জানিয়েছেন অবসর। চতুর্থ জন সাকিব আল হাসান ব্যক্তিগত কারণে ছুটিতে থাকায় নেই টেস্ট দলে। রইল বাকি মুশফিকুর রহিম।

তবে হারাধনের শেষ ছেলের মতো মনের দুঃখে তিনি বনে যাননি। দলের সঙ্গেই ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টের আগে শেষ মুহূর্তে হঠাৎ করে কুচকির ইনজুরিতে পড়ে তিনিও নেই দলে পঞ্চপাণ্ডবহীন বাংলাদেশ ক্রাইস্টচার্চে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমেছে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। সর্বশেষ ২০২১ সালে নিউ জিল্যান্ড সফরেই বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি খেলেছিল তাদের ছাড়া।

২০২০ সালের পর থেকেই বাংলাদেশ আর পঞ্চপাণ্ডব নিয়ে খেলতে নামতে পারেনি। শুরুটা হয় মাশরাফিকে দিয়ে। আগেই টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর মাশরাফি শুধু ওয়ানডে ক্রিকেটই খেলছিলেন। কিন্তু ২০২০ সালে  ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটকেও বিদায় বলেন। বাকি থাকে চারজন। কিন্তু গত বছর  জিম্বাবুয়ে সফরে মাহমুদউল্লাহ হঠাৎ করেই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালে সেই সংখ্যা আরো কমে আসে। ইনজুরি আর ব্যক্তিগত কারণে এখন তা শূন্যের কোটায়। আশা করা হচ্ছে খুব দ্রুত ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেই রঙিন পোশাকে আবার দেখা যাবে চারজনকে। 

এ পঞ্চপাণ্ডবের প্রথম সৈনিক ছিলেন মাশরাফি। ২০০১ সালে তিনি আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু করেন। সর্বশেষ যুক্ত হয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ ২০০৭ সালে। এ ছাড়া মুশফিকুর রহিম ২০০৫ সালে, সাকিব আল হাসান ২০০৬ সালে ও তামিম ইকবাল ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথ চলা শুরু করেন। তবে পাঁচজন একত্রে খেলা শুরু করার পরই কিন্তু পঞ্চপাণ্ডবের উপাধি পাননি।লিমিটেড ওভারের ম্যাচে পঞ্চপাণ্ডব অনেক ম্যাচ খেললেও সাদা পোশাকের ক্রিকেটে খেলেছেন একটি মাত্র ম্যাচ। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেন্ট ভিনসেন্টে অভিষেক হয়েছিল মাহমুদউল্লাহর।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে মূল খেলোয়াড়রা বয়কট করলে দ্বিতীয় সারির দল নামিয়েছিল তারা। মাশরাফি ছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। ইনজুরিতে পড়ে তিনি ছিটকে পড়েন। সেই টেস্টে পরে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাকিব। বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছিল ৯৫ রানে। পরের টেস্ট আর মাশরাফি খেলতে পারেননি। সাকিব নেতৃত্ব দিয়ে ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে। দেশের বাইরে বাংলাদেশের ছিল প্রথম টেস্ট জয় আবার প্রথম সিরিজ জয়ও।


আরও পড়ুন