মোংলা বন্দরে বিদেশি জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার, দায় কার?

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৭:০৯ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২১

মোংলা বন্দরের জেটিতে দুটি বিদেশি জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে বন্দর জেটিতে প্যানাডার (রাবার বা কাঠজাতীয় প্রটেকশন) না থাকায় আঘাত ও ঘর্ষণের কারণে মেশিনারি বোঝাই পর্তুগাল পতাকাবাহী ইউ এইচ এল ফোকাস জাহাজটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এতে বিদেশি জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নাবিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। এ ব্যাপারে ইউ এইচ এল ফোকাস জাহাজের ক্যাপ্টেন বন্দরের চেয়ারম্যান ও হারবার মাস্টারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। 
অপরদিকে, নাব্য সংকটের কারণে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এম ভি তুহিনা একই বন্দরের জেটি এলাকায় ডুবোচরে আটকে গেলে সেটি কাত হয়ে যায়। সে সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় জাহাজটি। গত বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) এ দুর্ঘটনা ঘটে। এই জাহাজ কর্তৃপক্ষও বন্দরের চেয়ারম্যান ও হারবার মাস্টারের কাছে অভিযোগ করেন। 
জাহাজের ক্যাপ্টেনের দেওয়া অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন বলেন, এম ভি তুহিনা জাহাজের ক্যাপ্টেন অভিযোগ দিয়েছেন তার জাহাজের তলদেশে মাটিতে আটকে যাচ্ছে ভাটার সময়। কিন্তু গত এক মাসে আরও যে জাহাজগুলো বন্দর জেটিতে ভেড়ানো ছিল তারা কোনো অভিযোগ করেননি। 
ওই জেটিতে অন্য জাহাজের ক্ষতিগ্রস্তের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্যানাডার লাগানোর (রাবার ও কাঠের প্রটেকশন) বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ অবস্থায় যতগুলো জাহাজ আসবে তারা একটু সমস্যা বা দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলবে এবং সাবধানতা অবলম্বন করবেন বলেও জানান তিনি।   
এম ভি তুহিনা জাহাজের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট আল-সাফার ম্যানেজার সাধন কুমার বলেন, বন্দর জেটির সম্মুখভাগে সাত মিটার গভীরতা রয়েছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষের ঘোষণা রয়েছে। কিন্তু জাহাজটি সেখানে রাখার পর দেখা গেছে চার থেকে সাড়ে চার মিটার গভীরতা রয়েছে সেখানে। যার ফলে ভাটার সময় জাহাজটি ডুবোচরে আটকে কাত হয়ে যায়। এ কারনে ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে লেটার অব পোর্টেস্ট (অভিযোগ) করেছেন বলেও জানান তিনি। 
অন্যদিকে, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের মেশিনারি নিয়ে আসা পর্তুগাল পতাকাবাহী ইউ এইচ এল ফোকাস গত বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) ৯ নম্বর জেটিতে এসে ভিড়ে। ওই সময় জেটির বাইরের অংশে প্যানাডার (রাবার ও কাঠের প্রটেকশন) না থাকায় আঘাত ও ঘর্ষণের ফলে জাহাজটির বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট অলসিসের প্রতিনিধি সাখওয়াত মিলন বলেন, ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখ করে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে জাহাজের ক্যাপ্টেন অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে এ রকম দুর্ঘটনার শিকার হলে এই বন্দর ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে বিষয়টি নিয়ে বন্দর মহলে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
 


আরও পড়ুন