গাবতলীতে নজর কাড়ছে যশোরের ‘বাংলার বস’

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৬:৪০ পিএম, ২৮ জুলাই ২০২০

অনলাইন ডেস্কঃ নাম ‘বাংলার বস’, ব্রিটিশ ফ্রিজিয়ান জাতের সাড়ে তিন বছর বয়সের কালো-সাদা রঙের ষাঁড়টির ওজন হবে প্রায় ৪০ মণ। ষাঁড়টির মালিকের ভাষ্য, মোটাতাজাকরণের তার পোষা গরুটিকে কোনো ধরনের কারসাজি করেননি।

একেবারে স্বাভাবিক উপায়ে খাবার খাইয়ে ‘বাংলার বস’কে বড় করেছেন। অনেক পরিশ্রমে ‘মীম ডেইরি ফার্মে’ বড় করে তোলা ষাঁড়টিকে এবার কোরবানির পশুরহাটে বিক্রির জন্য উঠানো হয়েছে। হাটে আনার পর একজন ক্রেতা ষাঁড়টির দাম হেঁকেছেন ২২ লাখ টাকা।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর স্থায়ী সবচেয়ে বড় পশুরহাট গাবতলীতে ‘বাংলার বস’কে আনা হয় যশোরের মনিরামপুর হুরগাতী গ্রাম থেকে। খামারি আসমত আলী গাইন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হুরগাতি গ্রামের মৃত রজব আলী গাইনের ছেলে। গত ২৫ বছর ধরে তিনি গরু পালন করেন। মীম ডেইরি ফার্ম নামের খামারে ইতোপূর্বে দুধের গাভী পালন করে আসছিলেন। গতবছর শখের বশে উন্নত জাতের এঁড়ে গরু কিনে সুষম খাদ্য, উপযুক্ত চিকিৎসা, নিয়মিত পরিচর্যা শুরু করেন।

তিনি জানান, হাটে আনার পর থেকেই ষাঁড়টিকে এক নজর দেখার জন্য দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। কেউ কেউ এসে ছবি ও ভিডিও করছেন।

আসমত আলী বলেন, আমার ফার্মের দুইজন লোক সবসময় ‘বাংলার বস’কে দেখভাল করতো। আমার সব কাজ শেষ করে এসে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেছি গরুটিকে।

খাদ্য অভ্যাস সম্পর্কে আসমত জানান, ২৫ কেজি ভুষি দিনে দু’বার খাওয়াই। ভুষির মধ্যে থাকে ছয় কেজি চালের কুঁড়া, ৮ কেজি গমের ভুষি, ১০ কেজি ভুট্টার ভুষি, ৪ কেজি খৈল, লবণ, চিটাগুড়, সারাদিনে ৪০ কেজি ঘাস খাওয়ানো হয়। 

আসমত আরো বলেন, আমার ফার্মে গাভী গরুর সঙ্গে রাখা হতো বাংলার বসকে। ফার্মে কোনো ফ্যানের ব্যবস্থা নেই। গাবতলী হাটে এ কারণে ‘বাংলার বস’ এর জন্যও কোনো ফ্যানের ব্যবস্থা করিনি। এভাবেই গরুটিকে বড় করেছি। ষাঁড়টিকে সকাল ও বিকেলে গোসল করানো হতো। এখন হাটে এক বেলা গোসল করাচ্ছি।

ওই খামারি বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আমার এটিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গরু ঘোষণা করেছেন এবং তারাই ‘বাংলার বস’ নাম দিয়েছেন। আমাকে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্টও দিয়েছেন। ষাঁড়টিকে জবাই করার পর ৩৬-৩৮ মণ মাংস হবে। সবকিছু মিলিয়ে ওজন হবে প্রায় ৪০ মণ। ‘বাংলার বস’র মাঝখানের ৭০ ইঞ্চি আর লম্বায় সাড়ে ১০ ফুট।

বাড়িতে কেমন দাম উঠেছিলো জানতে চাইলে বাংলার বসের মালিক  বলেন, বাড়িতে ২৪ লাখ টাকা দাম উঠেছিলো। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, যে ব্যক্তি ‘বাংলার বস’কে কিনতে চেয়েছিলো তিনি সপরিবারে করোনায় আক্রান্ত হয়। এ কারণে আর তিনি গরুটিকে নেননি। যশোর থেকে শুক্রবার (২৪ জুলাই) গাবতলী পশুরহাটে নিয়ে আসি। ২২ লাখ টাকায় বিক্রি করবো সেই আশায়। এরই মধ্যে একজন ২০ লাখ টাকা হেঁকে গেছেন। আমার এক কথা ২২ লাখ টাকা না পেলে ‘বাংলার বস’কে নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবো।