মায়ের দোয়ায় বেঁচে গেলেন সুমন

Online Desk Online Desk
প্রকাশিত: ১২:০৯ পিএম, ৩০ জুন ২০২০

অনলাইন ডেস্ক:  মো. সুমন বেপারী রাজধানীর বাদামতলী এলাকার ফল ব্যবসায়ী। মুন্সীগঞ্জ থেকে প্রতিদিনই  ঢাকায় আসতেন ফল বিক্রি করতে। ব্যবসার জন্য অনেক সময়  ঢাকায় সপ্তাহে তিনদিন থাকলেও মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ির আব্দুল্লাহপুরে নিজ বাড়িতে থাকেন চারদিন। আট ভাই ও এক বোনের সংসারে বাবা ফজল বেপারী মারা যান ৬ বছর আগে। এ সময় তিনি বিদেশে ছিলেন। দেশে ফিরে সত্তরোর্ধ্ব মা আমেনা খাতুনকে নিয়ে নিজ বাড়িতেই আলাদা থাকেন তিনি। অন্যান্য ভাই বোন সকলেই যার যার সংসার নিয়ে আলাদা।

প্রতিদিনের মতোই গতকাল সোমবার সকালে ফজরের নামাজ শেষে মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মীরকাদিম লঞ্চ ঘাটের উদ্দেশে রওনা হন। ঘাটে এসে মর্নিং বার্ড লঞ্চে উঠে যাত্রা করেন সদরঘাটের উদ্দেশে। কিন্তু পথিমধ্যে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় তাকে। রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকার কাছাকাছি এলে ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ময়ূরী-২ নামের তিন তলা একটি লঞ্চ মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দেয়। এ সময় লঞ্চটি উল্টে গেলে লঞ্চের সঙ্গে সঙ্গে তিনিও তলিয়ে যান।

সারাদিন খোঁজাখুঁজি শেষে চাচাকে না পেয়ে ক্লান্ত শরীরে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফেরেন সুমন বেপারীর ভাতিজা সাকিব বেপারী। তিনি জানান, সকালে টেলিভিশনে ব্রেকিং নিউজে লঞ্চডুবির সংবাদ পেয়ে চাচার মোবাইলে ফোন দিই। কারণ ওই লঞ্চে চাচার ঢাকায় যাওয়ার কথা। তার ফোন বন্ধ পেয়ে ছুটে যাই শ্যামবাজারের বুড়িগঙ্গার তীরে। সারাদিন খোঁজ করে কোনো হদিস না পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি ফিরে আসি। রাত ১০টায় একটি টিভি চ্যানেলে ১২ ঘণ্টা পর জীবিত একজনের সংবাদ দেখতে পাই। খবর দেখে নিশ্চিত হই ওই জীবিত ব্যক্তিই আমার ছোট চাচা সুমন বেপারী। আল্লাহর রহমতে তিনি বেঁচে গেছেন। এখন তিনি মিডফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


সুমন বেপারীর মা আমেনা খাতুন ছেলের জীবিত উদ্ধার হওয়ার সংবাদ পেয়ে নামাজ পড়ে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। যেন মায়ের দোয়াতেই নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। এ সময় সুমন বেপারীর মা নিহতদের পরিবারের এই শোক সহ্য করা ক্ষমতা প্রদানের জন্য প্রার্থনা করেন।
 
দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পর ডুবে যাওয়া মর্নিং বার্ড লঞ্চের ভেতর থেকে গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সুমন বেপারীকে। ডুবুরিরা যখন টিউবের মাধ্যমে লঞ্চটি ওপরে তোলার চেষ্টা করছিলেন তখন লঞ্চটির একাংশ ওপরে উঠে আসলেই সুমন বেপারী লঞ্চ থেকে বেরিয়ে আসেন। ডুবুরিরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে লাইফ জ্যাকেটে ঢেকে এবং শরীর মেসেজ করে তার শরীর গরম করার চেষ্টা করেন। এরপর সুমন বেপারী চোখ মেলে তাকান।

কোস্টগার্ড ও নেভির কর্মকর্তারা জানান, তারা যখন উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিটিকে বিভিন্ন প্রশ্ন করছিলেন তখন তিনি চোখের ইশারায় কথার জবাব দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘ সময় পানির নিচে আটকে থাকায় তার শরীরের তাপমাত্রা নেমে যায়।

পানির নিচে তলিয়ে গেলেও ওই ব্যক্তি কীভাবে বেঁচে গেলেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি যেখানে আটকা পড়েছিলেন সেখানে হয়তো সেভাবে পানি প্রবেশ করেনি। আর যখন টিউবের মাধ্যমে বিশেষ প্রক্রিয়ায় লঞ্চটি তোলার চেষ্টা করা হচ্ছিল তখন লঞ্চটি সামান্য ভেসে ওঠার পর ওই ব্যক্তি নিজের প্রচেষ্টায় বেরিয়ে আসেন। উদ্ধার কর্মীরা তখন তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে।