বিদ্যুতের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব গ্রাহক পর্যায়ে

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২২, ১০:৪০ দুপুর
আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২২, ০৫:২৮ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

পাইকারি পর্যায়ের বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার তিন দিনের মাথায় এবার গ্রাহক বা ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। একই দিন গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তবে গ্রাহক পর্যায়ে ২০ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)।

পিডিবি ছাড়াও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিপণন ও বিক্রি করে এমন দুটি প্রতিষ্ঠান গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যুতের খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়াতে লিখিত প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া আরও তিনটি কোম্পানি বিকেলের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে আবেদন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য, ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। তবে, দুয়েকটি কোম্পানি এর বেশি মূল্যবৃদ্ধির আবেদন করতে পারে। কারণ, পাইকারিতে বেশি দামে কিনে বিদ্যুৎ কম দামে বিক্রি করার সাধ্য কোম্পানিগুলোর নেই। গত সোমবার পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম ১৯.৯২ ভাগ বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বিইআরসি।

এতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুতের দাম প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টা ৫ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ২০ পয়সা করা হয়। বিতরণ কোম্পানিগুলোকে বিল মাস ডিসেম্বর থেকে এই দাম পরিশোধ করতে হবে। ২০২০ সালে পাইকারি পর্যায়ে পিডিবির কাছ থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৫ টাকা ১৭ পয়সা থেকে ৬ টাকা ৪৫ পয়সা করে কিনতে হতো। এ দফায় ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ দর বৃদ্ধির কারণে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে ইউনিট প্রতি বিদ্যুৎ কিনতে হবে ১ টাকা তিন পয়সা থেকে ১ টাকা ২৭ পয়সা বেশি দরে।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, পাইকারি বাজারে বিদ্যুতের দর বৃদ্ধির প্রভাব গ্রাহক পর্যায়ে পড়বে, সেটি প্রতীয়মান। এতে আমাদের লোকসান গুনতে হবে। যে কারণে দাম বাড়ানো আবেদন করা হবে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সবদিক বিবেচনা করা হবে। ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম বলেন, গ্রাহক পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ২০ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি।

এদিকে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এম শামসুল আলম পাইকারি পর্যায়ে বিইআরসি’র মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে ঘোর আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ানো ঘোষণা খুচরা পর্যায়েও বাড়ানোর নামান্তর, যা গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গত সোমবার পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেন বিইআরসি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল। এরপরই গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সামনে আসে। একই দিন গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ছে না বলে জানান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, গ্রাহক পর্যায়ে আদৌ দাম বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি-না তা নির্ভর করছে বিইআরসি’র ওপর। গ্রাহক পর্যায়ে স্বস্তি দিতে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কিন্তু এর কিছু সময় পরই গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানায় বিপিডিবি, বিআরইবি ও ডিপিডিসর একাধিক কর্মকর্তা।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানায় এখনই গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়বে না। ‘উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সারা পৃথিবীতেই বিদ্যুৎ-জ্বালানির প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে হচ্ছে। গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ার বিষয়টি নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের তথ্যের ওপর। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

কমিশনের সদস্য আবু ফারুক বলেন, আমরা এখনও তাদের প্রস্তাব হাতে পাইনি। হয়তো ডাকযোগে পাঠিয়েছে। বিতরণ কোম্পানিগুলো যদি সবাই দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়, তাহলে কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী আমরা তথ্য যাচাই-বাছাই করে গণশুনানি করব। এরপর কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটা তখনকার বিষয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়