টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা হিসাব করে পা ফেলছি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী 

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ০৪:৪২ দুপুর
আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ০৪:৪২ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার সাবধানতার সঙ্গে এগুচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।তিনি বলেছেন, আমরা প্রতিটি পা ফেলছি হিসাব করে। প্রতিটা পা ফেলছি টেকসই উন্নয়নের (সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট) লক্ষ্যে। কিন্তু আমাদের যে সহায়তা পাওয়ার কথা ছিল, পাইনি। সাস্টেইনেবিলিটি ডে উপলক্ষে বুধবার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জাতিসংঘের গ্লোবাল কম্প্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন যে, পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ৩৮টি রাষ্ট্রের একটি সংগঠন আছে ওইসিডি। যারা ১৯৭০ সালে অঙ্গিকার করেছিল জাতিসংঘে যে তারা তাদের জিডিপির ০.৭ শতাংশ উন্নয়ন সহযোগিতা দেবে পৃথিবীর অন্য পিছিয়ে পড়া রাষ্ট্রগুলোকে। কিন্তু আপনারা শুনলে অবাক হবেন, এই ৩৮টি দেশের মধ্যে মাত্র ৫টি দেশ সেই সময় থেকে যেই অঙ্গিকার ছিল, সেটি পূরণ করতে পেরেছে। এই দেশগুলো হচ্ছে নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও লুক্সেমবার্গ। আমরা প্রত্যাশা করব সামনের দিনে তারা এই ব্যার্থতা থেকে বের হয়ে আসবে তাদের জন্য, যারা তাদের উন্নয়নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০১৫ সালে এসডিজি নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নে করোনা, এখন আবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব ফেলেছে। তারপরও, এই এসডিজি বাস্তবায়নে আমরা সবার সহযোগিতা চাই। বাংলাদেশ সরকার প্রায় ৪০টি নীতিমালা গ্রহণ করেছে। এবং একেবারে ইউনিয়ন পর্যায়ে থেকে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পরিকল্পনা শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাইভেট সেক্টরের সহায়তাও প্রয়োজন। এবং বিদেশি বিনিয়োগ আসা দরকার। একই সঙ্গে যদি আমরা সমুদ্র থেকে আমাদের সম্পদ উত্তোলন করতে পারি, তাহলে আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারব ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে।  

শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৭৬টি সবুজ কারখানা আছে। পাইপলাইনে আছে আরও ৫০০টি। এটি আমাদের এসডিজি বাস্তবায়নে আরেকটি মাইলফলক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গত ১২-১৩ বছরের যাত্রায় বাংলাদেশ এমডিজি বাস্তবায়ন করতে পেরেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। এবং তিনি হলেন পৃথিবীর হাতে গোনা, অল্প সংখ্যক নেতাদের একজন৷ যিনি এমডিজি বাস্তবায়নের সময়েও ছিলেন এবং এসডিজি এডপ্ট (গ্রহণ করা) করার সময়েও ছিলেন।  

‘আমাদের একটি সমস্যা ছিল, বাংলাদেশ তার যাত্রার মাত্র ৫০ বছরে ৩ হাজার ডলারের কাছাকাছি মাথাপিছু আয় নিয়ে এসেছে। আমরা মনে করি যে, একটি দেশের স্বাধীনতার পরে, শোষণ-নির্যাতনের পরে মাত্র ৫০ বছরে বাংলাদেশ যে জায়গায় এসেছে পৃথিবীর খুব কম রাষ্ট্রই আছে, যারা এত কম সময়ে এরকম জায়গায় আসতে পেরেছে এবং সেটা অনেক সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। পৃথিবীর উন্নয়ন এবং শিল্পায়নের ইতিহাস যদি আপনারা পর্যালোচনা করেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মধ্যে তখন কিন্তু এগুলো ছিল না। টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের সচেতনতা ছিল না। আরেকটু নিচের দিকে নামলে জিডিপি বা সোলার পাওয়ার ইউজেস ছিল না। যে যেভাবে পেরেছে তারা কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে, তারপরে তাদের যথেষ্ট রিজার্ভ হয়েছে, তাদের যথেষ্ট ক্যাপাসিটি হয়েছে, তারপরে তারা এসডিজি বাস্তবায়ন করেছে। ’ যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের দিকে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য এবং কোম্পানি ও উন্নয়ন অংশীদারদের টেকসই অনুশীলনের প্রচার করার জন্য সাসটেইনেবিলিটি দিবস ২০২২ আয়োজন করা হয়েছে। সাসটেইনেবিলিটি দিবস ২০২২-এর লক্ষ্য হলো বেসরকারি খাত, উন্নয়ন অংশীদার, সুশীল সমাজ, একাডেমিয়া, ইউএন সিস্টেম এবং সরকার থেকে স্টেকহোল্ডারদের অগ্রগতি জানা, বৃহত্তর প্রভাবের ক্ষেত্রগুলোকে হাইলাইট করা এবং দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে ফোকাস করা বিষয়গুলিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া। সেশনগুলো সাস্টেইনেবিলিটির মূল থিমগুলি প্রতিফলিত করা, মূল বিষয়গুলির ক্ষেত্রে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং ২০৩০ এজেন্ডা এবং প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০৪১ একত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করে।

অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন জিসিএনবি প্রতিনিধি ফারুক সোবহান, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এন ভ্যান লিউয়েন, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ইসপেন রিকটার সভেডসেন, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সায়েদ এরশাদ আহমেদ, সুইজারল্যান্ডের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও ডেপুটি হেড অব কর্পোরেশন। অনুষ্ঠানে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ সেশন ছিল; সেশন ১- ‘ব্যবসা নেতৃত্বে নারী’, সেশন ২- ‘টেকসই ভবিষ্যতের জন্য ডিজিটাল রূপান্তর’, সেশন ৩- ‘ক্লাইমেট একশন-উদীয়মান অর্থনীতির জন্য পরিবর্তন’ এবং সেশন ৪- ‘মানবাধিকারের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ’। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যশনাল বাংলাদেশ, ড্যানিশ অ্যাম্ব্যাসি, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, একশন এইড, ডিবিএল গ্রুপ, আইএলও বেটার ওয়ার্ক, এমসিসিআই, এওয়ারনেস ৩৬০, লাইট ক্যাসেল পার্টনার্স, টেন মিনিটস স্কুল, প্রাভা হেলথ, নেক্সট জেনারেশন, সিআইএলটি বাংলাদেশ এবং শাটল থেকে বিভিন্ন বক্তারা সাস্টেইনেবিলিটি দিবস এর বিভিন্ন প্রাসংগিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে এক্সিবিশন বুথের মাধ্যমে বিভিন্ন সেক্টরের টেকসই অনুশীলন চর্চাগুলো তুলে ধরা হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়