আনসার বিদ্রোহ খালসপ্রাপ্তদের নিয়ে আপিল নিষ্পত্তি

প্রকাশিত: আগস্ট ০২, ২০২২, ১১:৫০ দুপুর
আপডেট: আগস্ট ০২, ২০২২, ১১:৫০ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

ঢাকা: ১৯৯৪ সালে আনসার বিদ্রোহের ঘটনায় অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়াদের মধ্যে যাদের বয়স ও শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা আছে তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল প্রশ্নে আপিল পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।

আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন ফকির, মো. সালাহ উদ্দিন দোলন ও অনীক আর হক।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এবং আনসার ভিডিপি মহাপরিচালকের পক্ষে আইনজীবী কামাল উল আলম ও কামরুল হক সিদ্দিকী।

পরে আইনজীবী মো. সালাহ উদ্দিন দোলন বলেন, পর্যবেক্ষণসহ আপিল ও লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ধারণা করছি পর্যবেক্ষণ আনসার সদস্যদের জন্য ইতিবাচক হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

অনীক আর হক জানান, রিটকারী আনসার সদস্যদের আপিল বিভাগ কী সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন তা পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে জানা যাবে।   

বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে ১৯৯৪ সালের ৩০ নভেম্বর আনসার বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। যা পরে বিদ্রোহে রূপ নেয়। সেনাবাহিনী, বিডিআর ও পুলিশের সহযোগিতায় ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

এ ঘটনায় পরে ২ হাজার ৬৯৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে কিছু কর্মকর্তা চাকরিতে পুনর্বহাল হলেও বাকি ২ হাজার ৪৯৬ আনসারকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

মামলার পর এসব অভিযুক্তরা বিচারে খালাস পায়। এ অবস্থায় তারা চাকরি ফিরে পেতে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন। কিন্তু তাদের চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়নি।

এ কারণে প্রথমে ২৮৯ জন ও পরে ১ হাজার ৪৪৭ জনের চাকরি পুনর্বহাল ও প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন।

পরে ৬৪৭ জন পৃথক দুটি রিট করেন। ২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল ২৮৯ জন ও ১০ জুলাই ১ হাজার ৪৪৭ জনকে চাকরিতে পুনর্বহালের রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এরপর ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ৬৭৪ জন নিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ের পর আইনজীবীরা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ১৯৯৪ সালের ৩০ নভেম্বর সংঘটিত আনসার বিদ্রোহের ঘটনায় চাকরিচ্যুত আনসারদের চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে যাদের শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা আছে তারাই চাকরি ফেরত পাবেন। কিন্তু যাদের সক্ষমতা নেই তারা যতদিন চাকরিতে ছিলেন তাদের ততদিনের পেনশন সুবিধা দিতে বলা হয়েছে।

আদালতের এ নির্দেশ রায় পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।ওই রায়ের বিরুদ্ধে আনসার ভিডিপি মহাপরিচালক এবং রাষ্ট্রপক্ষ আপিল ও লিভ টু আপিল (আপিল অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে।

গত ১৬ জুন ওই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে রায়ের জন্য ২ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়