ভোটার হালনাগাদের তথ্য যাচাই করতে পারবেন ভোটাররাই

প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২২, ০৬:২৯ বিকাল
আপডেট: মে ১৪, ২০২২, ০৬:২৯ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

দীর্ঘদিন পর আগামী ২০ মে থেকে শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম। এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পর সেই তথ্য সঠিক আছে কি না, তা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রিন্টের আগে যাচাই করতে পারবেন ভোটার নিজেই। এনআইডি হাতে পাওয়ার পরবর্তী ভুলের ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। নির্বাচন কমিশনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।


জানা গেছে, ২০ মে থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করছে। তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শেষ হলে ভোটার হতে আবেদন করা ব্যক্তি তাঁর নির্ধারিত দিন যাবেন ছবি তুলতে। সেদিন তাঁকে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় পূরণ করা তথ্যের একটি কপি সরবরাহ করা হবে। এ সময় তিনি তাঁর দেওয়া নাম-ঠিকানাতে কোনো ভুল তথ্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন। তথ্যের মধ্যে ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে একটি ফরম দেবেন। সেই ফরমে ভুল তথ্যগুলো উল্লেখ করে তা সংশোধন করা যাবে।

এরপর ওই ব্যক্তি স্বাক্ষর করে দিলে সে অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করবে নির্বাচন কমিশন। এর ফলে জনভোগান্তি কমার পাশাপাশি এনআইডি সংশোধন সংক্রান্ত কাজও কমে যাবে ইসির।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এনআইডি কার্ড প্রস্তুত করা হয়। ফলে, ভোটার ভুল তথ্য দিলে সেই ভুল এনআইডিতেও চলে আসে। আবার অনেক সময় ভোটারের অভিযোগ থাকে, তিনি সঠিক তথ্য দিয়েছেন; কিন্তু, ভুল এসেছে। যেভাবেই ভুল আসুক না কেন, এ ভুলের খেসারত দিতে হয় ভোটারকে। কারণ, এখন অধিকাংশ কাজেই এনআইডির প্রয়োজন হয়। আর প্রয়োজনের সময় সার্টিফিকেটের সঙ্গে মিল রেখে এনআইডি না থাকলে নানামুখী সমস্যায় পড়তে হয় নাগরিককে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এখন পর্যন্ত মুখোমুখি হওয়া নানা সমস্যাকে মাথায় রেখে ইসি এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নাগরিকের হাতেই পুনরায় তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়ার চিন্তা করা হয়েছে।

ইসির নির্বাচন সহায়তা শাখার সহকারি সচিব মো. মোশাররফ হোসেন  বলেন, ‘এসব নির্দেশনা সব উপজেলা বা থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ভোটারের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে—নিবন্ধন কেন্দ্রে ডাটা এন্ট্রির পর নাম, পিতা/মাতা/স্বামী/স্ত্রীর নাম ও জন্ম তারিখ ইত্যাদি ডাটার একটি প্রিন্ট কপি ভোটারকে নিরীক্ষণের জন্য দেওয়া হবে। টাইপিং ভুল কমাতে এবারই প্রথমবারের মতো ভোটারকে একটি প্রিন্টকপি দেখাতে হবে এবং তাতে কোনো ভুল থাকলে সঠিক তথ্য লিখে ভোটারের স্বাক্ষর গ্রহণ করতে হবে। নিবন্ধন ফরমের সঙ্গে শিক্ষা সনদ ও জন্ম সনদের ন্যায় এটিও ডাটাবেজে স্ক্যান করে সংযুক্ত করে রাখতে হবে। এ জন্য প্রতিটি রেজিস্ট্রেশন সেন্টারে একটি করে ডকুমেন্ট প্রিন্টারও থাকবে।

এ ছাড়া স্মার্ট কার্ড বিতরণের সময় যেভাবে ১০ আঙুলের ছাপ ও আইরিশ নেওয়া হয়, এবারের হালনাগাদে একইভাবে নিবন্ধন কেন্দ্রে বায়োমেট্রিক হিসেবে ছবি ও স্বাক্ষরের পাশাপাশি ভোটারের ১০ আঙুলের ছাপ ও আইরিশ নেওয়া হবে এবং তা নিরাপদে সংরক্ষণ করা হবে ইসির সার্ভারে।

২০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের প্রথম ধাপে ৬৪ জেলার ১৪০ উপজেলায় আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। অন্য উপজেলাগুলোয় পরবর্তীতে তিন ধাপে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।

এ কার্যক্রমে ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে জন্মগ্রহণকারীদের তথ্য সংগ্রহ করবে ইসি। অর্থাৎ ১৬ বছর বয়সীদের তথ্যও নেওয়া হবে। তাঁরা পরবর্তীতে বয়স ১৮ বছর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হবেন।

এ কর্মসূচিতে ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারের নাম কর্তন এবং আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে স্থানান্তরের আবেদনও নেবে ইসি।

যে কাগজপত্র জমা লাগবে

নিবন্ধনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূরণকৃত নিবন্ধন ফরম-২’র সাথে অনলাইন জন্ম সনদ (প্রয়োজ্য ক্ষেত্রে) অথবা এসএসসি বা সমমান পরীক্ষা বা যেকোনো পাবলিক পরীক্ষা পাশের সনদের ফটোকপি নেওয়া হবে। এ ছাড়া অন্যান্য কাগজপত্র যেমন- নাগরিক সনদ, প্রত্যয়নপত্র/বাড়ি ভাড়া/হোল্ডিং ট্যাক্স/ যেকোনো ইউটিলিটি বিল পরিশোধের রশিদের কপি জমা দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯’র ধারা ৩ (ক) এ নামের সংজ্ঞায় শিক্ষা সনদসমূহের পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর অধীন নিবন্ধিত নাম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজ্য হবে। বর্তমানে ইসির সার্ভারে ১১ কোটি ৩২ লাখ ভোটারের তথ্য রয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়