শিগগিরই আন্দোলনের রূপরেখা প্রকাশ : গয়েশ্বর

অলির এলডিপির দুই শতাধিক নেতা আব্বাসীর দলে

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২২, ০৬:২৭ বিকাল
আপডেট: মে ১৩, ২০২২, ০৭:১০ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের রূপরেখা খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। 

আজ শুক্রবার (১৩ মে) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ২০ দলীয় জোট শরিক এলডিপির একাংশের উদ্যোগে ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন : সংকটের একমাত্র সমাধান’-শীর্ষক আলোচনা সভায় এই কথা জানান তিনি। 

গয়েশ্বর রায় বলেন, আমরা এখন বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের জন্য কাজ করছি। এরপর একটি লক্ষ্য আদায়ের জন্য হবে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী চরিত্র বিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে। ফলে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা আর বেশি দূরে নয়। যেকোনো সময় সেটা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। সেইসঙ্গে আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখাও আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তুলে ধরবেন। এই ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুতি শেষ প্রান্তে। 

এলডিপির একাংশের সভাপতি আবদুল করীম আব্বাসীর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ নেতারা বক্তব্য রাখেন। 

অনুষ্ঠানে অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি থেকে সদ্য পদত্যাগ করা ড. আবু জাফর সিদ্দিকী, ফরিদ আমিন, মো. তমিজ উদ্দিন, সৈয়দ মো. ইব্রাহিম রওনক, গণতান্ত্রিক যুবদলের সাইফুল ইসলাম বাবু, মোহাম্মদ ফয়সাল, গণতান্ত্রিক ওলামা দলের মাওলানা বদরুদ্দোজা, মাওলানা আবদুল হাই নোমান, মহানগর দক্ষিণের এএসএম মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে ২১৫ জন নেতাকর্মী আব্বাসী ও সেলিমের নেতৃত্বাধীন এলডিপিতে যোগদান করেন। 

এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয় জানিয়ে গয়েশ্বর রায় বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের বড় বাধা শেখ হাসিনা। সুতরাং তাকে সরতে হবে, একইসঙ্গে সংসদও বাতিল করতে হবে- তারপরে নির্বাচন। এটাই বিএনপির কথা। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে বিএনপি যেমন নির্বাচনে যাবে না সেটা যেমন ঠিক, তেমনি এটাও ঠিক- বর্তমান সরকারের অধীনে যেনতেন নির্বাচন হতেও দেবে না বিএনপি।

বিএনপির এই নীতি-নির্ধারক বলেন, আমরা আন্দোলনে আছি। আন্দোলনের গতি হয়তো পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় বাড়বে বা কমবে। এটাই আন্দোলনের কৌশল। তবে আঘাত আসলে পাল্টা আঘাত, পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আজকে জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কলম্বোতে যেমন ফয়সালা হচ্ছে রাজপথে তেমনই ঢাকার ফয়সালাও হবে রাজপথে। 

ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, দলীয় সরকার তথা আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নেবে না বলেও জানান তিনি।

আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানের একটিই মাত্র পথ, সেটা হলো- নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হতে হবে। তার আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ এবং সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে।

শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে আমাদের ফয়সালা করতে হবে। এক্ষেত্রে বিএনপিকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। 

সভাপতির বক্তব্যে আবদুল করীম আব্বাসী বলেন, আজকে সময় এসেছে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই লুটেরা সরকারকে বিতাড়িত করতে হবে। এ সময় এলডিপিতে যোগদানকারী নেতাকর্মীদের স্বাগত ও ধন্যবাদ জানান তিনি। 

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়