কর্নেল অলির এলডিপি থেকে গণপদত্যাগ

সেলিমের অংশে যোগদানের সম্ভাবনা

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২, ০৯:৫৭ রাত
আপডেট: মে ১২, ২০২২, ১০:১১ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা গণপদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মে) দলটির যুগ্ম-মহাসচিব তমিজ উদ্দিন টিটু জানান, এলডিপি থেকে সম্প্রতি দুই শতাধিক নেতাকর্মী গণপদত্যাগ করেছেন। এদিকে এলডিপির দাবি, যারা পদত্যাগ করেছেন তারা দুষ্কৃতকারী। এরা দল ছাড়ায় এলডিপি পবিত্র হয়েছে। 

পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন : সহ-সভাপতি ড. আবু জাফর সিদ্দিকী, উপদেষ্টা পুষ্টিবিদ ফরিদ আমিন, যুগ্ম-মহাসচিব তমিজ উদ্দিন টিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মো. ইব্রাহিম রওনক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সভাপতি এ এস এম মহিউদ্দিন, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. আফজাল হোসেন মোর্শেদ, যুব বিষয়ক সম্পাদক শফিউল বারী রাজু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক লস্কর হারুনুর রশিদ, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন ম-ল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইমরান, গণতান্ত্রিক যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বাবু, সদস্য সচিব মোহাম্মদ ফয়সাল ও যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন পাঠান বিপ্লব, কাজী কামরুল হাসান, জাহাঙ্গীর আল সানি, হারুন অর রশিদ, ইউনুস বেপারী, রেজওয়ানুল ইফতেখারসহ ১০০ জন। এছাড়া সহযোগী সংগঠন গণতান্ত্রিক ওলামা দলের আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা বদরুদ্দোজা, সদস্য সচিব মাওলানা আবদুল হাই নোমান, যুগ্ম-আহ্বায়ক মাওলানা আসাদুল্লাহ, মাওলানা শিহাব উদ্দিন, মাওলানা আনোয়ার হোসাইনসহ ২৩ জন; ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হকসহ ৭৪ জনসহ এলডিপির সাধারণ ২১ সদস্য।

এলডিপির পদত্যাগকারী সহ-সভাপতি ড. আবু জাফর সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছিল না। যে কারণে আমরা পদত্যাগ করেছি। আমাদের বড় বড় দলের পক্ষ থেকে অফার রয়েছে। এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব। 

এদিকে পদত্যাগকারী নেতাদের ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এলডিপি। দুই শতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগের পর বৃহস্পতিবার দলটির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এলডিপি দেশের একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল। ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম এবং ড. রেদোয়ান আহমদ এ দলের মূল আকর্ষণ। তাদের নেতৃত্বে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এলডিপি আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী। দল ছাড়া নেতাদের ব্যাপারে এলডিপির স্পষ্ট ভাষ্য হলো, এরা এলডিপি থেকে বিদায় নেওয়ায় এলডিপি পূত-পবিত্র হয়েছে। সারাদেশে এলডিপির লাখ লাখ নেতা-কর্মী। যারা দল ছেড়েছে এদের চলে যাওয়ায় দলের কিছু যায়-আসে না। এলডিপি থেকে অতীতে যারা বিদায় নিয়েছে তারা কেউ রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি, এরাও পারবে না। ড. অলি আহমদ ও ড. রেদোয়ান আহমেদ হচ্ছেন দলের ফোকাস। এর বাইরে কে গেল, কে এলো- তা বিবেচ্য না।

অন্যদিকে পদত্যাগকারীদের ‘দুষ্কৃতকারী’ আখ্যা দিয়ে এলডিপির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতির প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ড. আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, এতেই অলি আহমদের মানসিকতা ফুটে ওঠে। রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। আমরা পদত্যাগকারীরা যদি দুষ্কৃতকারী হই, অলি সাহেবও বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন- তাহলে তিনিও কি দুষ্কৃতকারী? এটা আমার প্রশ্ন। তিনি বলেন, অলি আহমদের বয়স হয়েছে। আমাদের জন্য তিনি দোয়া করবেন। তাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। 

একটি সূত্র জানায়, পদত্যাগকারীদের অধিকাংশ নেতা আব্দুল করিম আব্বাসী ও শাহাদাত হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন এলডিপির অপর অংশে যোগদান করবেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে বর্তমানে এলডিপির দুটি অংশই রয়েছে।

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়