সরকারি প্রকল্পে বিলম্ব, বাড়তি খরচ ঠেকাতে কোরীয় পদ্ধতি চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২, ০৭:২৯ বিকাল
আপডেট: মে ১২, ২০২২, ০৭:২৯ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং বাড়তি খরচ এড়াতে বিশ্বে প্রথম অবস্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে এ সংক্রান্ত পদ্ধতি আদান-প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।


প্রকল্প শেষ হওয়ার আগে পরিচালক পরিবর্তন না করার পাশাপাশি দেশটিতে ঠিক সময়ে প্রকল্প শেষ হলে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি এবং বিলম্বের জন্য জেল দেওয়া হয় বলে জানান মন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং-কিউনের উপস্থিতিতে মোমেন এসব কথা বলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা যখন কোনো প্রকল্প শুরু করি, এটা সাধারণত ঠিক সময়ে শেষ হয় না। আমার কাছে অনেক উদাহরণ আছে, প্রকল্প তিন বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও লেগেছে ১০ বছর।আমাদের সব প্রকল্পে বিলম্ব আর বিলম্ব এবং ব্যয় সমন্বয়ের কারণে সরকারি অর্থ অতিরিক্ত খরচ হয়।’

তিনি জানান, জেনারেল পার্ক চুং-হি ক্ষমতায় আসার আগে দক্ষিণ কোরিয়াতেও এমন অবস্থা ছিল। ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন পার্ক।

ড. মোমেন বলেন, ‘এরপরে তারা কিছু নিয়ম চালু করেছে। তার মধ্যে রয়েছে প্রকল্প শেষ হওয়ার আগে প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন হবেন না। দ্বিতীয়ত, প্রকল্প ঠিক সময়ে বা সময়ের আগে শেষ হলে ওই কর্মকর্তা বেশ পদোন্নতি ও প্রণোদনা পাবেন।সবশেষে, প্রকল্প যদি ঠিক সময়ে শেষ না হয়ে বিলম্ব হয়, যেই কর্মকর্তা ওই প্রকল্প শেষের কাজে নিয়োজিত, তিনি শাস্তি পাবেন; তার পদাবনতি হবে, এমনকি জেলও খাটতে হয়।’

জেনারেল পার্কের আমলের এই নিয়ম দেশটিতে যথাসময়ে প্রকল্প শেষ হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে বিশ্বে এক নম্বর অবস্থানে রয়েছে।আমি আমাদের দক্ষিণ কোরীয় বন্ধুদের অনুরোধ জানাই, আমাদের সঙ্গে ওই পন্থা ও প্রক্রিয়া আদান-প্রদান করুন, যাতে প্রকল্পগুলো ও ঠিকাদারি কাজ ঠিক সময়ে শেষ হতে পারে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে অধিকাংশ সরকারি প্রকল্পের কাজ ঠিক সময়ে শেষ না করে দফায় দফায় সংশোধন ও ব্যয় বাড়ানো অহরহ চলছে। এর জন্য বিভিন্ন সময়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ খোঁজার নির্দেশও বিভিন্ন সময়ে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু লাগাম টানা হচ্ছে না।

অনুষ্ঠানে গরিব দেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস তুলে ধরে ড. মোমেন বলেন, ‘৬০ বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়া গরিব দেশ ছিল, প্রধানত কৃষিনির্ভর। বান কি মুনের আত্মজীবনী পড়ে জেনেছি, যুদ্ধের সময়ে দক্ষিণ কোরীয়দের দুই বেলা খাবার জোটাতে কষ্ট হতো।খনিজ সম্পদে অতটা সমৃদ্ধ না হলেও সেই দেশ পাল্টে গেছে। কিছু চমৎকার কাজ তারা করেছে; সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তারা বিশ্বের বহু দেশ থেকে এগিয়ে গেছে। জাদুকরি উন্নতির দেশ হয়েছে।’

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ব্যবসায় সহজ হওয়ার সূচকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম সারিতে রয়েছে। তারা বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও অনেক এগিয়ে।’

বৈশ্বিক এ সূচকে ১৭৬তম অবস্থান থেকে আট ধাপ এগিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের ১৬৮তম হওয়ার কথা উল্লেখ করে আরও উন্নতির জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়