আসন ভাগাভাগির নির্বাচন বাংলাদেশে হবে না : বিএনপি

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২, ০৭:২১ বিকাল
আপডেট: মে ১২, ২০২২, ০৮:১০ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসন ভাগাভাগির পরিকল্পনা হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির নেতারা বলেছেন, আসন ভাগের নির্বাচন বাংলাদেশে হতে দেওয়া যাবে না এবং যারা তাতে অংশ নেবে, তাদেরও প্রতিহত করা হবে। এ ধরনের নির্বাচনে যারা অংশ নিবে তারা জাতীয় বেঈমান হিসেবে চিহ্নিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তারা। 

আজ বৃহস্পতিবার (১২ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলা হয়। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদসহ বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেয়। 

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। কোনো আসন ভাগের নির্বাচনও বাংলাদেশে হবে না, কোনো আঁতাতের নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। আসন ভাগের নির্বাচনে যারা যাবে, সরকার ও তাদের বিরুদ্ধে একযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

যারা শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইবে তারা ‘জাতীয় বেঈমান’ হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা হলে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়ে আব্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন- রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হবে না। এ কথার পরই ড. খন্দকার মোশাররফের বাড়িতে হামলা করা হলো, রেদোয়ানের গাড়িতে হামলা হলো। এতে বোঝা যায়, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কেউ প্রধানমন্ত্রীর কথা শোনে না।

দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতিবেশী ও বাংলাদেশ সরকারের কতিপয় লোক ফেরি করে বেড়াচ্ছে-কাকে কয়টা আসন দিয়ে নির্বাচনে নেবে। এ অধিকার কে দিয়েছে?’ এসব আসন বণ্টনকারীদের ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সরকারের ফাঁদে পা দেবে, তাদের প্রতিহত করতে হবে। 

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর রায় বলেন, এখন থেকে হামলা হলে পাল্টা হামলা, আঘাত এলে পাল্টা আঘাত করতে হবে। আর ছাড় দেওয়ার সময় নেই। মুখ বুজে পিঠে লাঠির বাড়ি খাওয়ার সময় নেই। 

সভাপতির বক্তব্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক বলেন, দলীয় সরকার তথা শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। সেজন্য গণআন্দোলনে এই সরকারকে বিদায় করতে হবে। এজন্য আমাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল), রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আজিজুল বারী হেলাল, আবদুস সালাম আজাদ, মহানগর বিএনপির ইশরাক হোসেন, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, শ্রমিক দলের মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ নেতারা।

সমাবেশে বিএনপির শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মীর সরফত আলী সপু, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, মাশুকুর রহমান মাশুক, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, খন্দকার মারুফ হোসেন, শেখ মো. শামীম, আমিনুল ইসলাম; যুবদলের মোরতাজুল করীম বাদরু, এসএম জাহাঙ্গীর, মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, গোলাম সারোয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ইয়াসীন আলী, সরদার মো. নুরুজ্জামান, ডা. জাহিদুল কবির জাহিদ, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, কৃষক দলের শহীদুল ইসলাম বাবুল, ওলামা দলের মাওলানা নজরুল ইসলাম তালুকদার, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব আমানউল্লাহ আমান, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আরিফা সুলতানা রুমা, উত্তর বিএনপির এবিএমএ রাজ্জাক, সাবেক ছাত্রদল নেতা ইসহাক সরকার, মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম সাইদুল, মিরপুর থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী দেলোয়ার হোসেন দুলু, দারুসসালাম থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ মৃধা, মিরপুর থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. শহিদুর রহমান এনা, দারুসসালাম থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. লিটন ভূঁইয়া, দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. ইকবাল মাহমুদ রিপন, মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এস এম রুস্তম আলী, মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কেএম ইয়াহিয়া সামী, শাহবাগ থানা বিএনপির রাইসুল ইসলাম চন্দনসহ মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়