ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৬: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২, ০১:৪১ দুপুর
আপডেট: মে ১২, ২০২২, ০৫:০৬ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

ঈদযাত্রায় সড়ক ও মহাসড়কে ৩৭২টি দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংগঠনটির মহাসচিব মোজ্জাম্মেল হক চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিদায়ী পবিত্র ঈদুল ফিতরে যাতায়াতে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত ৮৪৪ জন আহত হয়েছেন।সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্মিলিতভাবে ৪০২টি দুর্ঘটনায় ৪৪৩ জন নিহত ও ৮৩৮ জন আহত হয়েছেন।

সংগঠনটি ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির বিষয়টি দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করে আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, বরাবরের মতাে এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে মােটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১৬৪টি মােটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪৫ জন নিহত ও ১১০ জন আহত হয়েছেন। যা মােট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৪.০৮ শতাংশ, নিহতের ৩৪.৮৫ শতাংশ ও আহতের ১৩.০৩ শতাংশ প্রায়। এ সময় সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ২০৯ জন চালক, ২৪ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৮ জন পথচারী, ৬২ জন নারী, ৩৫ জন শিশু, ৩৩ শিক্ষার্থী, দুইজন সাংবাদিক, আটজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১২ জন শিক্ষক, ছয়জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, দুইজন বীর মুক্তিযােদ্ধা ও একজন চিকিৎসকের পরিচয় মিলেছে।

প্রতিবেদনে সংঘটিত দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ করে বলা হয়, মােট যানবাহনের ৩৮.৭৫ শতাংশ মােটরসাইকেল, ১৫.৪৯ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-লরি, ৮.৪৫ শতাংশ কার-মাইক্রো-জিপ, ৫.২৩ শতাংশ নছিমন-করিমন-ট্রাক্টর-লেগুনা-মাহিন্দ্রা, ৮.৮৫ শতাংশ অটোরিকশা, ৫.৪৩ শতাংশ ব্যাটারি রিকশা-ইজিবাইক-ভ্যান-সাইকেল, ও ১৭.৯০ শতাংশ বাস এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।

সংঘটিত দুর্ঘটনার ২০.৯৬ শতাংশ মুখােমুখি সংঘর্ষ, ৪২.৪৭ শতাংশ পথচারীকে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনা, ১৫.৩২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনায়, ১৯.৮৯ শতাংশ অন্যান্য অজ্ঞাত কারণে, ১.০৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ ও ০.২৬ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে।

আরও বলা হয়, মােট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩৩.৮৭ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪৪.৩৫ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ১৩.৪৪ শতাংশ ফিডার রােডে সংঘটিত হয়। এছাড়াও সারাদেশে সংঘটিত মােট দুর্ঘটনার ৪.৮৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ২.৪১ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে সংঘটিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা বহুল প্রচারিত ও বিশ্বাসযােগ্য জাতীয় দৈনিক, আঞ্চলিক দৈনিক ও অনলাইন দৈনিক এ প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার এই চিত্রকে একটি প্রতীকী চিত্র বলা চলে। প্রকৃতপক্ষে দেশে বর্তমানে মােটরসাইকেল ও ইজিবাইক ক্যান্সারের মতাে বেড়ে যাওয়ার কারণে পঙ্গু হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ রোগী ভর্তি হলেও ঈদের সময়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন হারে প্রতিদিন রােগী ভর্তি হয়েছে। যার ৬০ শতাংশ মােটরসাইকেল, ২৫ শতাংশ ইজিবাইক দুর্ঘটনায় শিকার। এছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত রােগী ভর্তি হচ্ছে। দেশের বিভাগীয় হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১০০ সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত রােগী ভর্তি হচ্ছে। জেলা সদর হাসপাতালে ও আক্রান্ত রােগীর যে ধরনের ভয়াবহ চিত্র দেখা যায় প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের চিত্র সংবাদপত্রে উঠে আসে না বলেই আমরাও এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরতে পারি না।

তিনি আরও বলেন, সড়ক, রেল ও নৌপথের উন্নয়নে সরকার কয়েক লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্প প্রায় একযুগ ধরে বাস্তবায়ন করে আসছে। মােটরসাইকেল ও ইজিবাইকের আমদানি বন্ধের পাশাপাশি গণপরিবহনকে বিকশিত করার দাবি জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, প্রতিবছর পাঁচ লাখ মােটরসাইকেল বিপণন করে কোম্পানিগুলোর পাঁচ হাজার কোটি টাকা আয় হলেও দুর্ঘটনায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

বেশি সিসির মোটরসাইকেল অনুমোদন দেওয়ায় বিআরটিএর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়াবে। আমরা এ সিদ্ধান্ত পরিবতনের আহ্বান জানাই।

মহাসড়কে ঈদযাত্রার বহরে মােটরসাইকেলের ব্যাপক ব্যবহার, ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালানাে, মহাসড়কের নির্মাণত্রুটি, যানবাহনের রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা, উল্টোপথে যানবাহন চালানােসহ সড়ক দুর্ঘটনার বেশ কয়েকটি কারণ বের করে তা রোধের জন্য ৯টি সুপারিশ করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়