উদ্বোধনের আর মাত্র
০০
দিন
০০
ঘণ্টা
০০
মিনিট
০০
সেকেন্ড

পদ্মা সেতু নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সত্যের অপলাপ : ফখরুল

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাবে না বিএনপি 

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২২, ০৮:৪৮ রাত
আপডেট: জুন ২২, ২০২২, ০৮:৪৮ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারা যাবেন না। 

আগামী ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আজ বুধবার (২২ জুন) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল এ কথা জানান। 

এর আগে সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপি মহাসচিবসহ ৭ নেতার নামে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ কার্ড পৌঁছে দেয়া হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপি যাবে কিনা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা মানুষ হত্যা করে, এদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পদ্মায় ডুবিয়ে মারতে চায়, গোটা পৃথিবীতে নন্দিত মানুষ নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চুবিয়ে চুবিয়ে মারতে চায়- তাদের আমন্ত্রণে বিএনপির কোনো নেতা বা কর্মী কখনোই যেতে পারে না। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজকে (বুধবার) প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন-ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার মাওয়া প্রান্তে সেতুর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং জাপান সরকারকে পুনরায় মানিকগঞ্জের আরিচা প্রান্তে সেতুর জন্য সমীক্ষা করতে বলেন। হুইচ ইজ এ বার্টান্ড লাই। আমাদের কাছে প্রমাণ আছে, মাওয়া এবং জাজিরা প্রান্তে বর্তমানে যে পদ্মা সেতু হয়েছে- জাইকা কর্তৃক সেই সেতুর তৎকালীন পূর্ণাঙ্গ ফিজিবিলিটি রিপোর্টের কপি আমাদের কাছে আছে। এই রিপোর্টটি ২০০৪ সালের ৩ মার্চ সাবমিট করা হয়েছিল। এটা হচ্ছে ইন্টারিয়ম রিপোর্ট অন দ্যা ফিজিবিলিটি স্টাডি অব পদ্মা ব্রিজ। এরপরেও প্রধানমন্ত্রী কী করে বলতে পারেন যে, বিএনপি গভর্মেন্ট আসার পর এটাকে বন্ধ করে দেয় এবং এটা কোনো কাজ করেনি। 

তিনি বলেন, এই ফিজিবিলিটি রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই তারা (বিএনপি) পরবর্তীকালে কাজ করেছেন। তখনই এডিবি, বিশ্বব্যাংক ও জাপানের সাথে যোগাযোগ করে ফান্ডের জন্য আলোচনা করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের অভাবে সেটা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। অথচ তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সমানে বলে যাচ্ছেন বিএনপি সরকার এটা বন্ধ করে দিয়েছিল। 

মির্জা ফখরুল দাবি করেন বলেন, বিএনপি বা ড. ইউনূস পদ্মা সেতুতে বিশ^ ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করেনি। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির কথা তোলার পরে দেশবাসী জানল, আমরা জানলাম- সেখানে দুর্নীতি হচ্ছে। আজকে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট এখন ৩০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সত্যের অপলাপ এবং বিএনপিকে জনগণের সামনে হেয়-প্রতিপন্ন করার চেষ্টা-এগুলোর কোনটাই কাজ হবে না। কারণ দেয়ার আর টুলস এন্ড ডুকমেন্টস। 

সংবাদ সম্মেলনে পদ্মা সেতুর তৎকালীন সমীক্ষার বিবরণী তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সেতুর নির্মাণ কাজ ২০০৮ সালের অক্টোবর নাগাদ শুরু এবং ২০১৩ সালের মার্চ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এটাই পদ্মা সেতুর বেসিক। এটাকেই কেন্দ্র করে তারা (আওয়ামী লীগ) পদ্মা সেতুর পরবর্তী কাজ করেছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে। 

এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। 

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়