উদ্বোধনের আর মাত্র
০০
দিন
০০
ঘণ্টা
০০
মিনিট
০০
সেকেন্ড

ঘরোয়া অনুষ্ঠানেও নাশকতার গন্ধ খোঁজে আওয়ামী লীগ : রিজভী

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২২, ০৬:১৯ বিকাল
আপডেট: জুন ২২, ২০২২, ০৬:২২ বিকাল
আমাদেরকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) যেতে সমস্যা কোথায়, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ঢাবিতে ঘরোয়া সামাজিক অনুষ্ঠানেও আওয়ামী লীগ এখন নাশকতার গন্ধ খুঁজছে। 

আজ বুধবার (২২ জুন) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। 

রিজভী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে তো শিক্ষকরা থাকেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা থাকেন। এদের মধ্যে কেউ আমাদের আত্মীয়-স্বজন থাকতে পারে, বন্ধু-বান্ধব থাকতে পারে এবং আমাদের দলের সমমনা ব্যক্তি থাকতে পারে। তারা যদি আমাদেরকে দাওয়াত দেয়, সেখানে যদি আমরা যাই, এখানে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব কী করে দাঁড় করায় আওয়ামী লীগ?’ 

গত শনিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে এক ঘরোয়া নৈশভোজে গিয়েছিলেন বিএনপি নেতা রিজভী, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্লাবের সভাপতি বিএনপি সমর্থিত সাদা দলের শিক্ষক এবিএম ওবায়দুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। 

সেই প্রসঙ্গ ধরে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, গত ১৮ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে জাতীয়তাবাদী দল সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন ইউনির্ভাসিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে তিনি যান। ইউটাবের একটি ঘরোয়া দাওয়াতে আমি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকসহ সব মিলিয়ে ১০/১২ জন উপস্থিত ছিলাম। সেখানে অনেকেই সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন। আমার মিসেসও সেখানে ছিলেন। এটাকে এখন ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং তাদের দলদাস কিছু শিক্ষক। বিভিন্ন সংগঠনের নামে এখন তারা ষড়যন্ত্র আবিষ্কার করে আমাদের বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি দিয়ে আমিসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলামকে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দলবাজ প্রশাসন অধ্যাপক ওবায়েদকে নানাভাবে হয়রানি করছে। 

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু এবং বন্যা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দল বা আমরা যেভাবে সোচ্চার, এটাকে ডাইভার্ট করার জন্য এই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দাঁড় করানো হয়েছে। আসলে দেশে এখন দুই আইন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবসহ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আওয়ামী নেতা-মন্ত্রীদের অভয়ারণ্য। অনেক রাত পর্যন্ত তারা ক্লাবে আড্ডা দেন এবং লন টেনিস খেলাসহ নানাবিধ কর্মকান্ড চালায়। তাদের জন্য সাত খুন মাফ। অথচ কোনো শিক্ষকের আমন্ত্রণে বিরোধী দলের নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু সময়ের জন্য সেখানে অবস্থান করলেই তারা সেখানে নাশকতার গন্ধ পায়। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘আওয়ামী-ছাত্রলীগের প্রমোশন জোনে’ পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কারণ ওরা ছাড়া আর কেউ যেতে পারবে না, কারও কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার অধিকার নেই। সুতরাং এখন আমরা আওয়ামী প্রমোশন জোনই বলব, তেমনি ছাত্রলীগ প্রমোশন জোন বলব। আর এদেরকে ছত্রছায়া দিচ্ছে দলদাস বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে যাওয়াকে কেন্দ্র করে যে নাটক করা হচ্ছে, আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

এক সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ-রাকসুর ভিপির দায়িত্ব পালন করে আসা বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-কানুন তো আমি জানি। যে আইনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলে, ঠিক একই আইনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চলে। তারপরেও সেখানে আমি সিন্ডিকেট মেম্বার হিসেবে সাড়ে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেছি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-কানুন সম্পর্কে অনেক কিছু জানি। কখনও শুনেনি যে, বিরোধী দলের নেতারা রাত্রে অথবা দিনে গেলে পরে নাশকতার বিষয় হবে। এই কথা আমরা কোনোদিন শুনিনি।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় নেতা তারিকুল ইসলাম তেনজিং, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদুল কবির জাহিদ, কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুর রহমান তুষার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়