আসছে ঘূর্ণিঝড় : হতে পারে আমন ধানের ক্ষতি

Online Desk Online Desk
প্রকাশিত: ০৬:৫১ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি ঘূর্ণিঝড় এর উল্লেখযোগ্য অংশ ডিসেম্বর মাসের ৫ থেকে ৭ তারিখে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পূর্বাভাষ করছে সকল আবহাওয়া পূর্বাভাষ মডেল (আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন)

ডিসেম্বর মাসের ১-২ তারিখে বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়ে ৩ তারিখের মধ্যে এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়া ও ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখে ভারতের ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের বর্ডার ঘেঁষে উপকূলে আঘাত করবে (ঘূর্ণিঝড় এর অর্ধেক)। ঘূর্ণিঝড়টি পুরোপুরি স্থল ভাগের প্রবেশ না করে অর্ধেক অংশ সমুদ্রের উপকূল ঘেঁষে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ডিসেম্বর মাসের ৫ ও ৬ তারিখে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের কোলকাতা ও বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে স্থল ভাগে প্রবেশ করবে। এর পরে ঘূর্ণিঝড়টি পুরোপুরি বাংলাদেশের উপর দিয়ে অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্যের উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে। সম্ভব্য এই ঘূর্ণিঝড়টির সৃষ্টি নিয়ে প্রায় সকল আবহাওয়া পূর্বাভাষ মডেল একই সম্ভাবনার কথা বলছে। একই সাথে আমেরিকা,ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও কানাডার আবহাওয়া পূর্বাভাষ মডেল নির্দেশ করতেছে যে ঘূর্ণিঝড়টি স্থল ভাগে প্রবেশ করার পরে ঘূর্ণিঝড়টির কারণে সৃষ্ট ভারি বৃষ্টিপাতের মূল অংশ বাংলাদেশের উপর দিয়ে ডিসেম্বর মাসের ৬ তারিখে প্রবাহিত হবে। তবে ঘূর্ণিঝড় এর কারণে ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখ থেকে বাংলাদেশে খুলনা ও বরিশাল বিাভগের জেলাগুলোতে ও ৫, ৬ ও ৭ তারিখে পুরো দেশে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। 

এখানে উল্লেখ্য যে ভূ-পৃষ্ট থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ু পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। এই বায়ুপ্রবাহের মান যদি বর্তমানে আবহাওয়া পূর্বাভাষ মডেল নির্দেশ মান অনুসরণ করে তবে ঘূর্ণিঝড়টি উপরে বর্ণিত পথেই অগ্রসর হবে। কিন্তু বায়ুপ্রবাহের মান যদি একটু বৃদ্ধি পায় তবে এই ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর উপর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে নোয়াখালী, ফেনী, ও উত্তর চট্টগ্রামের উপর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করবে। 

 
দেশে যেহেতু আমন ধান মাড়াই এর মৌসুম চলতেছে তাই সম্ভব্য এই ঘূর্ণিঝড়টির কারণে আমন ধান চাষিরা ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। আমন ধান কেটে মাঠেই রেখে দেওয়া হয় শুকোনোর জন্য ৩ থেকে ৭ দিনের জন্য যেহেতু এই ধান দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখে থেকে ৭ তারিখে দেশ ব্যাপী মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে  কৃষকদের অগ্রিম সতর্ক ব্যবস্হা নেওয়া উচিত। দেশে চাউলের দামের কারণে এমনিতেই মানুষের উল্লেখযোগ্য অংশ কষ্টে রয়েছে। আমন ধান ইতিমধ্যেই পেকে গেছে অগ্রিম বৃষ্টিপাতের কথা কৃষকদের কাছে পৌঁছালে এই ধানের ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব বা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব।    

১) পোষ্টে যুক্ত প্রথম ছবিটি আমেরিকার আবহাওয়া পূর্বাভাষ মডেল নির্দেশিত ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভব্য পথ ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ।  


২) পোষ্টে যুক্ত দ্বিতীয় ছবিটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আবহাওয়া পূর্বাভাষ মডেল নির্দেশিত ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভব্য পথ ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। 


৩) পোষ্টে যুক্ত তৃতীয় ছবিটি কানাডার আবহাওয়া পূর্বাভাষ মডেল নির্দেশিত ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভব্য পথ ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ।