নাইট শিফটে জুট মিলে নারী শ্রমিককে ধর্ষণ-ভিডিও ধারণ

Online Desk Online Desk
প্রকাশিত: ১১:৩৩ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০২১

রংপুরের হারাগাছে একটি জুট মিলে এক নারী শ্রমিককে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণের ঘটনার তিন দিন পর থানায় মামলা নিয়েছে পুলিশ। টাকার বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মিল কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব না মানায় নির্যাতিতা ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধরেরও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) রাতে হারাগাছের এস আর জুট মিলে এই ঘটনা ঘটে। নাইট শিফট চলাকালে রাত আড়াইটার দিকে শারীরিক প্রতিবন্ধী ওই নারী শ্রমিককে একটি শেডের ভেতর ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে একই মিলের শ্রমিক হাফিজুল, ঝন্টু ও নজমুল। এ সময় মোবাইল ফোনে আপত্তিকর দৃশ্য ধারণ করে অভিযুক্তরা।


বিষয়ট মিলের ম্যানজার জানলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ নির্যাতিতার।

তবে নিজের দায় অস্বীকার করে ওই জুট মিলের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, বিষয়টি এলাকাকেন্দ্রিক। আমি এখানে চাকরি করতে এসেছি। আমারও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিষয়টি এলাকার মুরব্বিদের জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
 
শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) রাতে সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে দফারফার প্রস্তাব দেন। কিন্তু নির্যাতিতার পরিবার রাজি না হওয়ায় তাদের বেদম মারধর করেন নজরুল ইসলাম।

নির্যাতিতার স্বজনরা জানান, সাবেক কাউন্সিলর নজরুলের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমাদের মারধর করা হয়েছে। সালিশের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে আমরা থানায় মামলা করেছি।

ঘটনার তিন দিন পর শুক্রবার সাবেক কাউন্সিলর ও ৩ ধর্ষকের বিরুদ্ধে হারাগাছ থানায় ধর্ষণ মামলা করতে আসলেও পুলিশ ধর্ষণ চেষ্টার মামলা নেয়।

রংপুর মহানগর পুলিশের এডিসি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মিলের ম্যানজার যদি এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকেন তাহলে আমরা অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রধান ভূমিকা রেখেছেন সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে যেহেতু মামলা হয়েছে আমরা তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। অন্য অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

এদিকে অভিযুক্ত হাফিজুলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও ধর্ষণের ভিডিওটিও উদ্ধার হয়নি।