টিকার এসএমএস দ্রুত পেতে ৫ হাজার টাকা!

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৬:৪০ পিএম, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১

করোনার টিকা দ্রুত পেতে মোবাইল ফোনে এসএমএস পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল একটি চক্র। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

বিদেশগামী ব্যক্তিদের টার্গেট করে এ প্রতারণা করছিল তারা। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা করে নিত প্রতারকরা।
 
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মুগদা হাসপাতাল এলাকা থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।
 
গ্রেপ্তারকৃকতরা হলেন-  মো. নুরুল হক (৪৭), দুলাল মিয়া (৩৭), মো. সাইফুল ইসলাম (৩০) ও মো. ইমরান হোসেন (২৩)। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত চারটি মোবাইলফোন জব্দ করা হয়।
 
সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে, কয়েকজন প্রতারক বিভিন্ন হাসপাতালের সামনে অবস্থান করে বিদেশগামী প্রার্থীদের মুঠোফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে দ্রুত টিকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। সংবাদমাধ্যমে এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে ওই প্রতারকদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র‌্যাব গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। পরে বুধবার সন্ধ্যায় র‌্যাব-৩ এর একটি দল মুগদায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের মূল হোতা নুরুল হকসহ ৪ জনকে আটক করে।
 
তিনি বলেন, বিদেশগামীদের টিকা গ্রহণে বাধ্যবাধকতা ও তাড়া থাকে। তাদের টিকাগ্রহণে এই তাড়ার সুযোগে চক্রটি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ নেয়। এখন পর্যন্ত অন্তত দুই শতাধিক মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা।
 
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের টিকা দেওয়ার জন্য সরকার সাতটি হাসপাতাল নির্ধারণ করে দিয়েছে। চক্রটি প্রবাসীদের টার্গেট করেই সেসব হাসপাতালের সামনে ঘুরাফেরা করতে থাকে। টিকা পেতে বিভিন্ন তাড়ার কারণে প্রবাসীরা নির্ধারিত হাসপাতালে যোগাযোগ করেন। আর তখনই প্রতারক চক্রটি দ্রুত ম্যাসেজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়। টাকা নেওয়ার পর অনেকে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাসেজ পেয়ে যেতেন, তখন এই প্রতারকরা নিজেরা ক্রেডিট নিতেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তদবির করে দুই-একটি ম্যাসেজ দেওয়ার ব্যবস্থা করত। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা প্রলোভন দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যারা মেসেজ পেতেন তারা সাধারণত অভিযোগ করেননি। কিন্তু টাকা দিয়েও ম্যাসেজ না পেয়ে অনেকে অভিযোগ করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকতা।