কর্মস্থলে যাওয়ার পথে প্রাণ হারালেন স্বামী-স্ত্রী

Online Desk Online Desk
প্রকাশিত: ০৪:২৭ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২১

বাসা থেকে মোটরসাইকেল করে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বাসের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন আকাশ ইকবাল ও তার স্ত্রী মায়া হাজারিকা মিতু।  

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে প্রতিদিনের মত বাসা থেকে একইসঙ্গে বের হন আকাশ ইকবাল ও তার স্ত্রী।


নিজের মোটরসাইকেল করে স্ত্রীকে তার কর্মস্থলে নামিয়ে দিয়ে আকাশ যাবেন তার নিজ কর্মস্থলে। কিন্তু পথেই ঘাতক বাসের চাপায় ঝড়ে গেলো দু’টি তাজা প্রাণ।
ফরিদপুর সদর উপজেলার ধুলদি গ্রামের জাফর শেখের ছেলে আকাশ। একই এলাকাতে বাড়ি স্ত্রী মায়ারও। স্ত্রী মায়া ও চার বছরের একমাত্র মেয়ে আফরানকে নিয়ে দক্ষিণখান মোল্লারটেক তেতুলতলা উদয়ন স্কুলের পাশে একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তারা।

নিহত আকাশের ফুপাতো ভাই মো. মিজানুর রহমান মিন্টু জানান, ৬-৭ বছর আগে বিয়ে হয় তাদের। আকাশ উত্তরায় একটি ডেভেলপার কিম্পানিতে চাকরি করতেন। আর তার স্ত্রী মায়া বিমানবন্দরে একটি রেস্টুরেন্টে চাকরি করতেন। তাদের ৪ বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। প্রতিদিন আকাশ তার মোটরসাইকেল করে মায়াকে নিয়ে বাসা থেকে বের হতেন। বিমানবন্দরে মায়াকে নামিয়ে দিয়ে তিনি উত্তরায় তার অফিসে যেতেন। আজও তারা একইসঙ্গে বের হয়েছিলো। কিন্তু আজমেরি পরিবহনের বাসের চাপায় তাদের সব স্বপ্ন নিভে গেলো।

তিনি বলেন, আকাশের বাবা-মা গ্রামে থাকেন। তার বাবা স্ট্রোকের রোগী।  পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আকাশ। তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে জানান, তাদের সন্তানকে আজই প্রথম স্কুলে ভর্তি করা হয়। নিহত আকাশের শাশুড়ি আরফানকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলেন।  

সোমবার সকাল ৭টার দিকে বিমানবন্দর পদ্মা ওয়েল পাম্প গেটের সামনে আজমেরি পরিবহনের একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী আকাশ ইকবাল (৩৩) ও স্ত্রী মায়া হাজারিকা মিতু (২৫) ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে বিমানবন্দর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসটিকে জব্দ করেছে পুলিশ। তবে এর চালক পালিয়ে গেছেন।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী জানান, প্রথমে যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। পরে বাসটি তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তারা।  এ ঘটনায় বাসটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে গেছেন। চালককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।