আরডিএ‘তে বিশ্ব মৌমাছি দিবস
দেশে বছরে ৩০ হাজার টন মধু উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের
স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্ব মৌমাছি দিবস উপলক্ষে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমীতে (আরডিএ) “জলবায়ু সহনশীল মৌচাষ ও মৌজাত পণ্যের উপকারিতা” বিষয়ক দিনব্যাপী সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার (২৪ মে) বাংলাদেশ মৌচাষী সোসাইটির সার্বিক সহযোগিতায় একাডেমী মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
“মানুষ ও মৌমাছি পৃথিবীতে একত্রে বসবাস একটি অংশীদারিত্ব; যা আমাদের টিকিয়ে রাখে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত প্রশিক্ষণটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রায় ৫০০ জন মৌচাষি অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “মৌচাষকে আর ক্ষুদ্র পেশা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি আমাদের কৃষি, নিরাপদ খাদ্য, আমদানি বিকল্প, রপ্তানি সম্ভাবনা এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানের একটি অন্যতম কৌশলগত খাত।
মৌমাছি রক্ষা মানেই কৃষি রক্ষা, আর কৃষি রক্ষা মানেই খাদ্যনিরাপত্তা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা।”তিনি আরও জানান, দেশে বছরে অন্তত ৩০ হাজার টন মানসম্মত মধুর চাহিদা পূরণ এবং বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে সরকার একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ গবেষণা প্রতিষ্ঠান পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ), বগুড়া এই প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেবে।
এই প্রকল্পের আওতায় বগুড়াকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘বি-ব্রিডিং অ্যান্ড হানি প্রসেসিং প্লান্ট’ স্থাপন করা হবে। যার মাধ্যমে উন্নত জাতের রাণী মৌমাছি উৎপাদন, ফুডগ্রেড কনটেইনার সরবরাহ, কিউসি ল্যাবে মধু পরীক্ষা, আধুনিক প্যাকেজিং, স্টোরেজ ও খুচরা আউটলেট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুনপ্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৌচাষ, নিরাপদ খাদ্য, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং রপ্তানিমুখী পল্লী শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই আরডিএ-এর মৌচাষ গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করে এ খাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন এবং “সবার আগে বাংলাদেশ” দর্শনের আলোকে উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিএ-এর উপ-পরিচালক ড. মনিরুল ইসলাম। নিজের গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৪ সালে দেশে প্রাকৃতিক ও চাষভিত্তিক উৎস মিলিয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টন মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এর বিপরীতে বাজারে চাহিদা ছিল প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টন। ফলে দেশে এখনো বছরে প্রায় ৫ থেকে ১০ হাজার টন মধুর ঘাটতি রয়েছে, যা পূরণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মৌচাষী সোসাইটির চেয়ারম্যান এ কে এম সিরাজুল ইসলাম এবং গোপালগঞ্জ পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। মূল প্রবন্ধের ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন আরডিএ-এর সাবেক পরিচালক ড. এ কে এম জাকারিয়া।
আরডিএ বগুড়ার মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) মোঃ ফেরদৌস হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আরডিএ বগুড়ার পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ও কোর্স পরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসেনসহ একাডেমীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
মন্তব্য করুন








