ভিডিও রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৪ মে, ২০২৬, ০৫:৫৪ বিকাল

নির্বাচনের আগে বাড়ি ফিরতে বাসসেবা, জয়ের পর নীরব জবি শিবির

জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের আগে শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরায় সক্রিয় ভূমিকা দেখা গেলেও, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা না থাকায় জবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে নীরব থাকার অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

গত বছরের নভেম্বরে ভূমিকম্পকালীন পরিস্থিতি ও জকসু নির্বাচনের আগে উদ্ভূত অস্থিরতায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সে সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসসেবা চালু করা হয়। তবে আসন সংকটের কারণে ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষার্থী সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

এ অবস্থায় জবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নিজস্ব অর্থায়নে অতিরিক্ত বাসের ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার সুযোগ করে দেয়। সংগঠন দুটির এমন উদ্যোগ সে সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে।

তবে চলতি বছরের ঈদযাত্রাতেও একই ধরনের বাস সংকট তৈরি হলেও এবার ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (২২ মে) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভাগীয় শহরগুলোতে শিক্ষার্থীদের পৌঁছে দিতে বাসের ব্যবস্থা করলেও আসন সংকটের কারণে অনেকেই যেতে পারেননি।

এ অবস্থায় বাস সুবিধা না পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আগের মতো কোনো পরিবহন সহায়তা না আসায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকের প্রশ্ন, নির্বাচনের আগে নেওয়া উদ্যোগগুলো কি শুধুই ভোটকেন্দ্রিক ছিল? জকসু নির্বাচনের পর কেন একই ইস্যুতে আর তেমন সক্রিয়তা দেখা গেল না?

এ বিষয়ে জবি শিক্ষার্থী নুরুল আমিন রাইয়ান বলেন, “কাজের বেলায় কাজী, কাজ ফুরালেই পাজী— বাগধারাটির অর্থ হচ্ছে নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে তোমাদের জন্য অপ্রয়োজনীয় আয়োজন করবো, নিজেদের ফান্ডিং থেকে শিক্ষার্থীদের বাসের ব্যবস্থা করে দিবো, এইটা দিবো ওইটা দিবো, আর নির্বাচন শেষ হলেই ক্ষমতাসীন দলের দোষ দিয়ে বলবো— আমাদের হাত বেঁধে রেখেছে, কাজ করতে দেয় না।”

আরও পড়ুন


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “জকসু নির্বাচনের আগে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিযোগিতা দেখা গেছে। তখন বিভিন্ন সংগঠন বাসের ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু এখন একই সমস্যা হলেও সবাইকে আর তেমনভাবে দেখা যাচ্ছে না। এখন বোঝা যাচ্ছে, ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো ছাত্রসংসদে বিজয়ী হওয়ার জন্য পূর্বে কাজ করেছে। এখন প্রয়োজন শেষ, তাই আর শিক্ষার্থীদের কথা ভাবে না তারা।”


শিক্ষার্থী কেয়ারুল ইসলাম জানান, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনের আগে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ঈদযাত্রার কথা বলে বাস সার্ভিস দিয়ে নিজেদের শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে উপস্থাপন করেছিল শিবির। কিন্তু নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর এবার ঈদে সেই উদ্যোগের কোনো দেখা মেলেনি।

আমি মনে করি, এটি ছিল শুধুই ভোটের রাজনীতি। আমার মতে, শিবির সুবিধাবাদী আচরণ করেছে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও আবেগ নিয়ে ফাজলামি করেছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও পরের বাস্তবতার পার্থক্য এখন সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।”


তবে এ বিষয়ে জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ জানান, “মূলত ঈদে বাস দেওয়ার বিষয়টি প্রথম জকসু ভিপির দাবির প্রেক্ষিতে আলোচনায় আসে। ছাত্রশিবির বাস দিল কি দিল না, সেটি আপেক্ষিক বিষয়। আমরা চেষ্টা করেছি, তবে সফল হইনি। প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করেনি।

ছাত্রদলকে বাস দিতে ঢাকা-৭ আসনের সাংসদ হামিদ ভাই সহযোগিতা করেছেন। আমাদের এমন কোনো রুলিং পার্টির সমর্থন না থাকায় আমরা ব্যবস্থা করতে পারিনি। আমরাও চেষ্টা করেছি, তবে ঈদের আগে একটি বাস ম্যানেজ করা অনেক কঠিন বিষয়। তখন জকসুর আগে বাস ম্যানেজ করা তুলনামূলক সহজ ছিল, যা ঈদের সময় সম্ভব হয়নি।”

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচনের আগে বাড়ি ফিরতে বাসসেবা, জয়ের পর নীরব জবি শিবির

১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আমি আসলে একটা অকর্মার ঢেঁকি : জোভান

হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১৬ শিশুর

রাজা কাশেফের সুর সঙ্গীতে গানে গানে শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্য্য

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিআরপি কর্তৃপক্ষের সৌজন্য সাক্ষাৎ