বালুবাহী ডাম্প ট্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত বগুড়া সারিয়াকান্দির সড়ক, এলাকাবাসীর ভোগান্তি
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার সারিয়াকান্দির গ্রামীণ সড়কে প্রতিদিন বালুবাহী ডাম্প ট্রাক চলাচল করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক। সড়কে চলাচল এবং রাতে ঘুমাতে নানাধরণের সমস্যায় পড়ছেন এলাকাবাসী। সিলগালা করা স্তুপকৃত বালু জোরপূর্বক বিক্রি, খনন যন্ত্র বসিয়ে অবৈধভাবে মোটা বালু উত্তোলন এবং বিক্রি চলছে। এতে করে সারিয়াকান্দি ও গাবতলী উপজেলার পৌর এলাকার প্রধান সড়কে যানজটের সৃষ্টি, কখনো ভয়াবহ দুর্ঘটনা এবং ব্লক ইটের ওপর দিয়েও চালানো হচ্ছে ডাম্প ট্রাক।
সারিয়াকান্দির গ্রামীণ সড়কে প্রতিদিন শত শত বালুবাহী ডাম্প ট্রাক চলাচল করছে। সাধারণত সন্ধ্যার পর থেকে সারারাত এ ট্রাকের চলাচল বেশি দেখা যায়। গ্রামীণ সড়কে যেখানে ভারি যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ সেখানে ১০ চাকার বেশি বালুবাহী ডাম্প ট্রাক চলাচল করছে।
এতে সড়কগুলোর দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে সড়কের দুই কিনারায় ড্রেনের মতো সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও বিশালাকার গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও একহাঁটু ধুলাবালির সৃষ্টি হয়েছে।
গত প্রায় দেড় বছর আগে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বরইকান্দি বাজার থেকে মাছিরপাড়া সেতু পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ করা হয় কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে। সড়কটি ব্লক ইট দিয়ে নির্মাণ করায় এ সড়কের সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকমাস ধরেই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শতশত বালুবাহী ডাম্প ট্রাক চলাচল করছে। ফলে এ সড়কের ব্লক ইটগুলো ভেঙে গেছে, কোথাও ইট দেবে বিশালাকার গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও ইট দেবে লম্বা-চওড়া ড্রেনের মতো সৃষ্টি হয়েছে।
বালুবাহী ট্রাক চলাচল করার কারণে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ছাইহাটা বাজার থেকে ছাইহাটা গ্রামের প্রধান সড়ক এবং নিউ সোনাতলা গ্রামের প্রধান সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় বিশালাকার গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কগুলো দিয়ে আগে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করলেও এখন এ সড়কগুলো যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, এসব গ্রামীণ সড়কগুলোতে যখন ডাম্প ট্রাক চলাচল করে তখন তারা গ্রামীণ কাঁচা বাড়িতে থাকতে পারেন না। ভারি ট্রাকের ঝাকুনিতে তাদের ঘরগুলো নড়বড় করতে থাকে। তাছাড়া রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায় এবং রাতে এলাকাবাসী ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। ঘুম ভেঙে গিয়ে রাতে ছোট শিশুরা কান্নাকাটি শুরু করে দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকমাস আগে উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের চর ডোমকান্দি গ্রামের বাঙালি নদীর খননের প্রায় কয়েক কোটি সিএফটি বালুর স্তুপ স্থানীয় বালুদস্যুরা জোরপূর্বক বিক্রি করায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহরিয়ার রহমান তা সিলগালা করে দেন। কিন্তু এসব সিলগালা করে রাখা বালুগুলো গত কয়েকমাস ধরেই বিক্রি করছেন স্থানীয় বালুদস্যুরা, যা ১০ চাকার ডাম্প ট্রাক দিয়েই পরিবহন করা হচ্ছে।
এছাড়াও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ডোমকান্দি গ্রামের কালের খেয়ার ঘাট নামক এলাকায় খনন যন্ত্র বসিয়ে অবৈধভাবে মোটা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালুগুলো স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। পরে স্তুপ থেকে ট্রাকে করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিব্বির আহমেদ বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন এসেছি। বিষয়গুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে এবং বালু পরিবহনে কোথাও আইনের ব্যত্যয় হলে সেখানে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন





_medium_1764421778.jpg)


