ভিডিও শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০৭:১৫ বিকাল

খুলনার আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন

প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ

খুলনার লবণচরা টুটপাড়া দরবেশ মোল্লা গলির ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল হোতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 


আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এ্যাডমিন এন্ড ফিন্যান্স) আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ এ তথ্য জানান। 

প্রেস ব্রিফিয়ে তিনি বলেন, খুলনায় চাঞ্চল্যকর নাতনী ফাতিহা (৭) নাতী মুস্তাকিম (৮) এবং নানী মহিতুন্নেছা (৫৩) হত্যার মূল আসামী শামীম আহমেদকে বুধবার (২৬ নভেম্বর) গভীর রাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে তাকে খুলনার লবণচরা থানায় হস্তান্তর করে বিমানবন্দর পুলিশ। তাকে আদালতে হাজির করলে হত্যার দায় তিনি স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, রোববার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে হত্যাকাণ্ডে ৪-৬ জন অংশ নেয়। তাদের মধ্যে দুইজন বাড়ির বাইরে এবং ৪ জন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয় নাতি নাতনী ও নানীকে। ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে লবণচরা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে অপরাধীরা। এ ঘটনায় তার সাথে থাকা বাকী অপরাধীদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রূপসা আইচগাতী ইউনিয়ন ভবাণীপুর গ্রামে ১ একর ৬৯ শতক পৈত্রিক জমি নিয়ে শেফার আহমেদের সাথে তারই মামাতো ভাই শামীমের বিরোধ ছিল। আদালতে মামলাও চলছে। ২০০৩ সালে শামীম একটি অস্ত্র মামলার আসামী ছিলেন। এরপর তিনি ফ্রান্সে চলে যান। ২০১৭ সালে ফ্রান্স থেকে দেশে ফেরেন। এরপর তিনি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ৭-৮ মাস আগে জামিনে মুক্তি পান। জেলখানায় বসেই শামীম তার ফুফাতো ভাই শেফারের পরিবারকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। 

তিনি আরও জানান, অস্ত্র মামলায় জেলে থাকাকালে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে শামীমের। জেলখানা থেকে বের হয়ে তিনি জেলখানায় পরিচিত সন্ত্রাসীদের ১ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়া করে পতিপক্ষ সেফার আহম্মেদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করেন। গত ১৬ নভেম্বর দুপুর একটা থেকে দেড়টার মধ্যে শামীমের নেতৃত্বে ৭ জন লবণচরা এলাকার দরবেশ মোল্লা গলির শেফার আহমেদের বাড়িতে প্রবেশ করে। প্রথমে দেওয়াল টপকে একজন ভেতরে প্রবেশ করে প্রধান গেটের পকেট গেটটি খুলে দেয়। এরপর তারা একে একে তিনজনকে ইট দিয়ে থেতলে হত্যা করে মুরগীর খামারের কক্ষে রেখে দেয়। এরপর তারা শেফার আহমেদ ও তার স্ত্রী রুবি আক্তারকে হত্যা করার জন্য ওই বাড়ীতেই অবস্থান করে। কিন্তু সেটি সফল করতে না পেরে তারা কৌশলে পালিয়ে যায়। 

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী শামীম আহম্মেদ ঘটনার দিন থেকে পলাতক ছিল। তিনি কৌশলে ফ্রান্সে পালিয়ে যাচ্ছিল। গত ২৭ নভেম্বর রাত তিনটায় ঢাকার বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া এ মামলায় লবণচরা থানার মোল্লাপাড়া এলাকার মো. আজহারুল ইসলাম আরজুর ছেলে তরিকুল ইসলাম তারেককে (২৬) গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া এ ট্রিপল হত্যা মামলায় একই থানার জিন্নাহপাড়া এলাকার মো. বাবুল হাওলাদারের ছেলে তাফসির হাওলাদারকে (২০) গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইয়ের দুটি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে শামীম আহমেদ শুক্রবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। জবানবন্দীতে শামীম বলেছে যে হত্যা মিশন সফল হওয়ার পর তিনি ভাড়াটে খুনীদের এক লাখ টাকা পরিশোধ করেছে।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে কেএমপি’র সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শিহাব করিম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া)  ত.ম রোকনুজ্জামান, সহকারী পুলিশ কমিশনার (স্টাফ অফিসার টু পিসি) মো. গোলাম মোর্শেদ, লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম, নিহত ফাতিহা ও মুস্তাকিমের বাবা শেফার আহমেদ এবং মা রুবি আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খুলনার আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন

জৈন্তাপুরে ভারতীয় কম্বলসহ দুজন গ্রেপ্তার

পাওয়ার প্লেতে উড়ন্ত সূচনা আইরিশদের

বগুড়ার সোনাতলায় কাঁচা মরিচের আমদানি, ভালো দাম পেয়ে কৃষক খুশি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সয়াবিন-জেলিতে দুধ তৈরি ২০ হাজার টাকা জরিমানা

ঝিনাইদহে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে যুবদল কর্মীর মৃত্যু