কাঁচি দিয়ে ১৫ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিলেন প্রধান শিক্ষক, ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা
নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর বদলগাছীতে পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। কাঁচি দিয়ে শিক্ষার্থীদের চুল খোপ খোপ করে কেটে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন অভিভাবকেরা। গত শনিবার দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে খোপ খোপ করে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক। এতে শিশুদের চুলের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হয়ে যায়। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে বিব্রত হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, এর আগেও ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মারধরসহ নানা ধরণের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। অভিযোগ ওঠা প্রধান শিক্ষকের নাম শহিদুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানান অভিভাবকেরা।
এমন ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পরায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ছাত্রের মাথার চুল বিকৃত করে খোপ খোপ করে কেটে দেওয়ার কথা জানান বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র ও অভিভাবকেরা। সেখানে আরও বলছেন, কারণে অকারণে এমন মারধর করে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম।
মিলন নামের এক অভিভাবক বলেন, বাড়িতে এসে দেখি, ছেলে ফাহামুদ হোসাইনের মাথার চুল খোপ খোপ করে কেটে দেওয়া হয়েছে। অথচ তার মাথায় স্বাভাবিক চুল ছিল। আরেক অভিভাবক রকেট হোসেন বলেন, প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল এভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে। এর আগেও এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুঠোফোনে জানান, ছেলে-মেয়েদের চুল অনেক বড় হয়েছিল। চোখের ওপর এসে পড়ছিল। এ কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দিয়েছি।
বিদ্যালয়ে নাপিত ডেকে বা অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা না নিয়ে কেন এভাবে খোপ খোপ করে চুল কেটে দেওয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের দেখতে খারাপ লাগছিল। এ জন্য কপালের ওপরের চুল কেটে দিয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। কী কারণে শিক্ষার্থীদের মাথার চুল এভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে, সহকারী শিক্ষা অফিসার রহুল আমিন তদন্ত করছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি বলেন, এ ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/190377