দিনে গরম রাতে শীত : আবহাওয়ার বৈপরীত্যে বদলে যাচ্ছে লালমনিরহাটের জনজীবনের চিত্র

দিনে গরম রাতে শীত : আবহাওয়ার বৈপরীত্যে বদলে যাচ্ছে লালমনিরহাটের জনজীবনের চিত্র

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ভোরে ঘাস ও ধানগাছের ডগায় জমছে শিশির, রাত বাড়তেই চারপাশ ঢেকে যাচ্ছে কুয়াশায়। হিমেল বাতাস জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। অথচ বেলা বাড়লে দেখা মিলছে তীব্র রোদের। দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা আবহাওয়ার এমন বৈপরীত্যে উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে বদলে যাচ্ছে জনজীবনের চিত্র।

একদিকে নতুন ধান ঘরে তোলাকে ঘিরে গ্রামীণ জনপদে চলছে নবান্নের আয়োজন, অন্যদিকে, ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে বাড়ছে সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার মতো রোগ। চিকিৎসা নিতে হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন অভিভাবকরা।

প্রকৃতির পালাবদলের মধ্যেই গ্রামীণ জনপদে শুরু হয়েছে নতুন ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততা। নতুন ফসলকে ঘিরে ঘরে ঘরে চলছে নবান্নের আয়োজন। একসময় নবান্ন ঘিরে গ্রামবাংলায় যে উৎসবের জৌলুস ও আনুষ্ঠানিকতা ছিল, সময়ের পরিবর্তনে তা কিছুটা কমেছে। তবে নতুন ফসলের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আনন্দ এখনো অটুট।

এদিকে আবহাওয়ার এই বৈপরীত্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। সকালে কুয়াশা ও ঠান্ডা উপেক্ষা করে কাজে বের হতে হচ্ছে তাদের। আবার বেলা বাড়লে তীব্র রোদের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে পড়তে হচ্ছে অস্বস্তিতে। সন্ধ্যার পর আবার বাড়ছে শীতের অনুভূতি।

কৃষক আলমাস হোসেন জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে কনকনে ঠান্ডা আর কুয়াশা মাথায় নিয়ে ক্ষেতে যেতে হয়। বাধ্য হয়েই গায়ে জড়াতে হয় শীতের কাপড়। অথচ সারাদিন প্রচণ্ড রোদ থাকে। আবার সন্ধ্যা নামতেই শুরু হয় ঠান্ডা বাতাস। জীবিকার তাগিদে সকালে রিকশা নিয়ে রাস্তায় নামেন ফজর উদ্দিন। বলেন, সকালে যে পরিমাণ ঠান্ডা থাকে, তাতে গরম পোশাক ছাড়া বের হলে নানা অসুখ ধরে। আবার দিনের বেলায় রোদের কারণে সব খুলে রাখতে হয়। সব মিলিয়ে এক দমবন্ধ অবস্থা।

এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে শিশুদের স্বাস্থ্যে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের ভিড় বাড়ছে। সর্দি, কাশি, জ্বর, হাঁপানি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ইসরাত জাহান বলেন, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সিজনাল ফ্লু ও ভাইরাস ফিভারের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। বর্তমানে হাসপাতালে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুও আসছে। অভিভাবকদের এসময় শিশুদের প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে বলে পরামর্শ দেন তিনি।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/190368