বগুড়ার শেরপুরে আসাদুল হত্যা রহস্য উম্মোচনে পুরস্কার পেলেন ইন্সপেক্টর জয়নুল
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : শেরপুরে ব্যাটারি চালিত অটোচালক আসাদুলকে (২৪)কে জবাই করে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার ও ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মতে আসামির জবানবন্দী রেকর্ড এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের স্বীকৃতি স্বরুপ শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর জয়নুল আবেদীনকে আজ রোববার (৮ নভেম্বর) অর্থ পুরস্কার প্রদান করেছেন রাজশাহী রেঞ্জর ডিআইজি মীর আশরাফ আলী।
গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে শেরপুরের রণবীরবালা এলাকার করতোয়া নদী থেকে অটোচালক আসাদুলের অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকান্ড ক্লুলেস হলেও পুলিশ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ অক্টোবর রাতে রিয়াদ অটোভ্যান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী অটোভ্যান চালক আসাদুলের সঙ্গে রিয়াদ পরিচিত হয়। একপর্যায়ে আসাদুল রিয়াদকে মাদক কিনে দিতে বলে। তবে রিয়াদ মাদক সংগ্রহে ব্যর্থ হয়। পরে আসাদুল নিজেই ইয়াবা কিনে রিয়াদকে একটি নির্জন স্থানে সেবনের প্রস্তাব দেয়।
এরমধ্যে রিয়াদ পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওই দিন রাতে শেরপুর ঘাট পার হয়ে রণবীরবালা এলাকায় রেনু বেগমের বাড়িতে আসাদুলকে নিয়ে ইয়াবা সেবন করে। শেষে ইয়াবা সেবনে ব্যবহৃত সরঞ্জামের (নতুন টাকার নোট) নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়।
এক পর্যায়ে পূর্বপরিকল্পনা ও ক্ষোভে রিয়াদ ঘরের ভিতরে থাকা ছুরি দিয়ে আসাদুলের গলায় আঘাত করে। এতে আসাদুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে আবারও আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে রাত ১টার দিকে রিয়াদ তার নানি রেনু বেগমের সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুসহ অন্যান্য আলামত পার্শ্ববর্তী করতোয়া নদীতে ফেলে দেয় এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী অটোভ্যানটি খুলে বিক্রি করে দেয়।
পরে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো-বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সানচকমরিয়া গ্রামের রিয়াদ হোসেন (২১) ও রিয়াদের নানি শেরপুর উপজেলার রণবীরবালা এলাকার মৃত ফরিদ প্রামাণিকের স্ত্রী রেনু বেগম (৬০)।
দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যা রহস্য উম্মোচন ও আসামিদের গ্রেফতার এবং মালামাল উদ্ধারে রাজশাহী রেঞ্জর ডিআইজি মীর আশরাফ আলী শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জয়নুল আবেদিনকে আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/190349