চাঁদপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩, ১৮ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার

চাঁদপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩, ১৮ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার

চাঁদপুর বড় রেলওয়ে স্টেশনে এক নারীর কাছ থেকে ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। 

এ সময় ছিনতাই হওয়া ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৪৮ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিয়া নূর।

পুলিশ জানায়, গত ৫ নভেম্বর ভোর আনুমানিক ৪টা ৫৬ মিনিটে চাঁদপুর বড় রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে রওনা হয়ে চাঁদপুর স্টেশনে পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মেরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে থানায় মামলা করেন।

মামলা দায়ের করার পর এ ঘটনার ছায়া তদন্তের দায়িত্ব জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান।

পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই জিয়াউল হক জিয়া, এএসআই জহির উদ্দিনসহ একটি দল তদন্ত ও অভিযান শুরু করে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল হোতা মো. জাহিদ হোসেন ওরফে কেলা জাহিদ (২১) এবং রাব্বি হোসেনকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার জাহিদ হোসেন চাঁদপুর শহরের শ্রমিক কলোনীর মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে এবং রাব্বি হোসেন শহরের জামতলা এলাকার আব্দুল মালেক কুড়ালির ছেলে।

পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর ভোরে কিশোরগঞ্জ সদর থানার মাইজকান্দি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজকান্দি গ্রামে এক আসামির বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে জাহিদ ওরফে গরু জাহিদ (২১) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ছিনতাই হওয়া নগদ ৪৮ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার জাহিদ ওরফে গরু জাহিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাঁদপুর বড় স্টেশন বরফকল ভিআইপি ঘাটের সিঁড়ির নিচে এবং নদীর পন্টুনের সুড়ঙ্গ থেকে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। তার দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে তিনি নিজেই স্বর্ণালংকারগুলো বের করে দেন।

উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে সাতটি চেইন, পাঁচটি আংটি, চার জোড়া কানের দুল, দুটি রুলি, একটি গলার হার ও একটি ব্রেসলেট। উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মোট ওজন প্রায় ১৮ ভরি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিয়া নূর বলেন, এ ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/190285