১২ বছর পর মাওলানা ফারুকী হত্যার ছয় আসামির বিচার শুরু
দীর্ঘ ১২ বছর পর ইসলামি বক্তা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডের মামলায় ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়েছে।
আজ রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকার ৯ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. শহিদুল ইসলাম শুনানি শেষে অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৬ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার এ তথ্য জানান। এদিন আসামি আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার ওরফে রিয়াজ ওরফে রিপন ও আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী আদালতে হাজিরা দেন। তাদের পক্ষে আইনজীবী জায়েদুর রহমান জাহিদসহ অন্যরা অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন।
এই মামলায় কারাগারে থাকা আসামি হাদিসুর রহমান সাগরকে ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত দেখানো হয়। তাদের উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নাকচ অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। তবে দুই আসামি মাহমুদ ইবনে বাশার ও রফিকুল ইসলাম ফারদীন পলাতক থাকায় উপস্থিত ছিলেন না। আসামিরা হলেন- হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর ওরফে জুলফিকার ওরফে সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস ওরফে আবু আল বাঙ্গালী ওরফে আব্দুল্লাহ স্যার ওরফে তৌফিক আমজাদ (৩৫), আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ (৩৫), রফিকুল ইসলাম ফারদীন (৩১),আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী (২৫), মাহমুদ ইবনে বাশার (৩২), রতন চৌধুরী ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রিপন ওরফে রাকিবুল ইসলাম রিয়াজ (৩৩)।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের ১৭৪ নম্বরের নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার বাসা থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুণ্ঠন করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তার ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পুলিশের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। এতে ছয়জনের পূর্নাঙ্গ নাম ঠিকানা না পাওয়ায় ছয়জনকে অব্যাহতির সুপারিশ ও ছয়জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়েছে। এছাড়া সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়ায় আরো ছয়জনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। পরবর্তীতে আদালত তাদের মামলায় দায় থেকে অব্যাহতি দেন।
মামলার অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় ঢাকার আশুলিয়ায় অবস্থিত ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজের পাশে কামার পাড়ায় জঙ্গি নেতা জামাই ফারুকের সহযোগী ইমনের শ্বশুর বাড়িতে বসে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। জেএমবি নেতা জামাই ফারুক, মাহমুদ ইবনে বাশার, রতন চৌধুরী ইঞ্জিনিয়ার রিপন ও রাকিব ওরফে রিয়াজ, নাঈম, হাদিসুর রহমান সাগর জুলফিকার ওরফে সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস, আবু আল বাঙ্গালী আব্দুল্লাহ স্যার ওরফে তৌফিক আমজাদ, আব্দুল্লাহ আল তাসনিম, নাহিদ, ইমন, রফিকুল ইসলাম রুবেল, সরোয়ার জাহান মানিক, হাফেজ কবির, মো. মাশতাক ই মাতম ও মোস্তাফিজুরসহ অন্যান্য জঙ্গিরা পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ঘটনার দিন ভিকটিম নূরুল ইসলাম ফারুকীকে মতাদর্শের পার্থক্যের কারণে তার নিজের বাসায় খুন করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
নিহত নুরুল ইসলাম ফারুকী একজন সুফি মতবাদের অনুসারী এবং ইসলামি বক্তা ছিলেন। তিনি একজন মাজারের অনুসারী লোক ছিলেন। অপরদিকে আসামিরা জেএমবি মতাদর্শের লোক ছিল। তারা মাজার স্থাপন ও মাজারে প্রচলিত কার্যক্রমের পরিপন্থি মাতবাদ প্রর্বতন করেন। তৎকালীন সময়ে জেএমবি নামক সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম দেশব্যাপী চলমান ছিল। মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে তৎকালীন সক্রিয়া জঙ্গি সংগঠন জেএমবি (একাংশ) তথা জামাই ফারুক গ্রুপের জঙ্গীরা এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/190281