শীত মৌসুমে রান্নাঘর থেকে ইঁদুর তাড়ানোর প্রাকৃতিক উপায়
শীতকালে রান্নাঘর উষ্ণ ও খাবারের সুগন্ধে ভরপুর থাকে। ছুটির দিনের আয়োজন সামনে রেখে এ সময় অনেকেই বেশি রান্নাবান্না করেন। কিন্তু উষ্ণতা ও খাবারের গন্ধ ইঁদুরকেও আকৃষ্ট করে।
লাইসেন্সপ্রাপ্ত কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ অ্যালান বসেল বলেন, ‘শীত শুরু হলে ইঁদুর খাবার, উষ্ণতা ও আশ্রয়ের খোঁজে বের হয়। বাড়ির সবচেয়ে উষ্ণ জায়গাগুলোর একটি হওয়ায় রান্নাঘরে তারা এই তিনটিই পেয়ে যায়। এখানে খাবার, পানি ও আশ্রয়ের নির্ভরযোগ্য উৎস রয়েছে।’
তাই শীতের আগেই রান্নাঘর ইঁদুরমুক্ত রাখতে সতর্ক হওয়া জরুরি। এ জন্য ছয়টি প্রাকৃতিক উপায় অনুসরণ করতে পারেন।
দেয়ালের ফাঁক ও গর্ত বন্ধ করুন
রান্নাঘরে ইঁদুরের প্রবেশ ঠেকাতে প্রথমেই তাদের ঢোকার পথ বন্ধ করতে হবে। অ্যালান বসেলের পরামর্শ, বাড়ির দেয়াল ও আশপাশে কোনো ফাঁক বা গর্ত আছে কি না, তা পরীক্ষা করুন।
তিনি বলেন, শীতের আগেই বাড়ির চারপাশের ফাঁকগুলো বন্ধ করা জরুরি। বিশেষ করে ড্রায়ারের বাতাস বের হওয়ার পথ, পানির পাইপ ও বৈদ্যুতিক তারের সংযোগস্থল পরীক্ষা করুন। গর্তে প্রথমে স্টিল উল বা তামার জাল ভরে পরে সিমেন্ট বা সিল্যান্ট দিয়ে বন্ধ করুন। এতে ইঁদুর ঘরে ঢুকতে পারবে না।
এ ছাড়া গ্যারেজের দরজার নিচের পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত রাবারের আবরণ বদলে ফেলুন। এই ফাঁক দিয়েও সহজে ইঁদুর ঘরে ঢুকতে পারে।
রান্নাঘর পরিষ্কার রাখুন
বসেলের মতে, চুলার নিচে পড়ে থাকা খাবারের টুকরা বা খোলা সিরিয়ালের বাক্সও ইঁদুরকে দীর্ঘদিন রান্নাঘরে আকৃষ্ট করতে পারে।
তাই প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে রান্নাঘর পরিষ্কার করুন। ময়লা ফেলুন, মেঝে ঝাড়ু দিন এবং রান্নার জায়গা মুছে ফেলুন। সিঙ্কে খাবারের উচ্ছিষ্ট বা নোংরা বাসন জমিয়ে রাখবেন না। রাতে রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা জরুরি। কারণ, এ সময় ইঁদুর খাবারের সন্ধানে বেশি সক্রিয় থাকে।
রান্নাঘরের অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন
পরিপাটি রান্নাঘরে ইঁদুরের লুকানো বা বাসা বাঁধার সুযোগ কম থাকে। অন্যদিকে, অগোছালো জায়গায় তারা সহজেই আশ্রয় খুঁজে পায়।
বসেলের মতে, বাজারের ব্যাগ, কার্ডবোর্ডের বাক্স ও জিনিসপত্র রাখার পাত্র ইঁদুরের বাসা তৈরির উপযুক্ত জায়গা। দিনের বেলায় তারা এসবের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই ঋতু পরিবর্তনের সময় রান্নাঘরের অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন। প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখুন এবং অযথা স্তূপ জমতে দেবেন না।
খাবার ভালোভাবে ঢেকে রাখুন
শুকনা খাবার ও হালকা নাশতা বায়ুরোধী পাত্রে রাখলে রান্নাঘর গোছানো থাকে এবং ইঁদুরের উপদ্রবও কমে। কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ জেসন নাপোলস্কি ও বসেল খাবার সংরক্ষণে শক্ত প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
তবে শুধু চিনির প্যাকেট বা সিরিয়ালের বাক্স ঢেকে রাখলেই হবে না। বেক করা খাবার ও অতিরিক্ত পাকা ফলও বাইরে ফেলে রাখা উচিত নয়।
নাপোলস্কির পরামর্শ, পাউরুটি ঢাকনাযুক্ত বাক্সে রাখুন। ফল অতিরিক্ত পেকে যাওয়ার আগেই খেয়ে ফেলুন বা ফেলে দিন। কারণ, পাকা ফলের তীব্র গন্ধ ইঁদুরকে আকৃষ্ট করতে পারে। প্লাস্টিকের বদলে কাচ বা ধাতব পাত্রও ব্যবহার করতে পারেন।
পোষা প্রাণীর খাবার সরিয়ে রাখুন
শুধু মানুষের খাবারই ইঁদুরকে আকৃষ্ট করে না। পোষা প্রাণীর খাবারও ইঁদুরের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। এমনকি তাদের পানির পাত্র থেকেও ইঁদুর পানি পান করতে পারে।
তাই প্রতিদিন সন্ধ্যায় পোষা প্রাণীর খাবারের পাত্র সরিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বসেল। সম্ভব হলে পাত্রগুলো ধুয়েও ফেলুন। পাশাপাশি পোষা প্রাণীর খাবার বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করুন।
পেপারমিন্ট অয়েল ব্যবহার করুন
ইঁদুর দূরে রাখতে পেপারমিন্ট অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পোষা প্রাণী ও ছোট শিশুদের আশপাশেও এটি ব্যবহার নিরাপদ। নাপোলস্কির পরামর্শ, রান্নাঘরের দেয়ালের নিচের কিনারাজুড়ে কয়েক ফোঁটা পেপারমিন্ট অয়েল দিতে পারেন। এর তীব্র গন্ধ ইঁদুরের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
নাপোলস্কি বলেন, ইঁদুর প্রস্রাবের মাধ্যমে চলাচলের পথে গন্ধ রেখে যায়। এই গন্ধ অনুসরণ করে তারা বাসায় ফিরে আসে। পেপারমিন্ট অয়েলের তীব্র গন্ধ সেই পথ চিনতে বাধা দেয়। ফলে ইঁদুর ওই জায়গা এড়িয়ে চলতে পারে।
সূত্র: দ্য স্প্রুস
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/190197