৭ নভেম্বর: রাজনীতির সুশৃঙ্খল গতিপথের নায়ক জিয়াউর রহমান
৭ নভেম্বর; বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদলের ঐতিহাসিত স্মারকচিহ্ন কিংবা নতুন রাজনৈতিক ধারার বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত বহুমাত্রিক অধ্যায়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাষ্ট্রীয় অনিশ্চয়তা ও সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মধ্যে এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার ও সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের উত্থানের পথ তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনা, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা পায়। রুদ্ধ রাজনীতির দ্বার খুলে যায়। বিকশিত হয় দেশের রাজনীতি। চালু হয় একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ধারা। সেই ধারার উত্তরাধিকার আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা বিকশিত হচ্ছে দেশের ভূ-রাজনৈতিক গতিপথ।
বিএনপি আদর্শিকভাবে ৭ নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। জনপ্রিয় এই দলটির রাজনৈতিক দর্শনে দিনটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থানের স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন বাংলাদেশের স্থপতি জিয়াউর রহমান। এরপর তিনি ক্রমে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রে চলে আসেন। এরপর বগুড়ার গাবতলী উপজেলার কৃতি সন্তান জিয়াউর রহমান একটি রাজনৈতিক দর্শন ও সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় পায়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের ইতিহাসে অনবদ্য নায়ক জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সুক্ষ্ম। রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি রাজনৈতিক দল গঠন ও বহুমাত্রিক রাজনৈতিক শক্তিকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেন তিনি। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সেই উদ্যোগ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও পেশার মানুষকে একত্র করার মধ্য দিয়ে বিএনপি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
দেশের রাজনীতিতে বহুদলীয় ব্যবস্থার বিকাশের আলোচনা করতে গেলে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় রাজনৈতিক পরিসরে প্রত্যাবর্তন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ডের সুযোগ সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারের বিষয়গুলো তার শাসনামলের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ের কেন্দ্রে বহুদলীয় রাজনীতির ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার হাত ধরেই। এই কারণে তাকে বাংলাদেশের মানুষ তথা রাজনৈতিকভাবে সচেতন মানুষেরা মনে রাখবে আজীবন।
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে হত্যা করা হয় দেশের তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। তার মৃত্যুর পর অর্থাৎ স্বামীর মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করে দীর্ঘ সময় দলকে সংগঠিত রাখেন। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং একাধিকবার সরকার পরিচালনার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৯১ সালে তার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন ঘটে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০২৫ সালে ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন। বাংলাদেশের প্রথন নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে দেশের ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে সংবাদ প্রচার হয়।
এই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের নেতৃত্ব বিএনপির জন্য নতুন অধ্যায়। দীর্ঘদিন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিকশিত রাজনৈতিক সংগঠনটি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে প্রবেশ করে। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অর্থাৎ দলীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বও এখন তার কাঁধে।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক পরিচয় নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন রাজনৈতিক দর্শনকে বর্তমান সময়ের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করছেন। তার বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাষ্ট্র সংস্কার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, জনগণের ভোটাধিকার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবও এই রাজনৈতিক অবস্থান উপস্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এখানে তারেক রহমানের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কিংবা খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পরিচয় তাকে নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে; কিন্তু সেই উত্তরাধিকার ধরে রাখার চেয়ে বড় দায়িত্ব হলো তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটানো। রাজনৈতিক সহনশীলতা, আইনের শাসন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং বিরোধী মতের প্রতি শ্রদ্ধা—এসব ক্ষেত্রে কার্যকর দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারলেই তার নেতৃত্বের স্বতন্ত্র মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠিত হবে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক উপস্থাপনার আরেকটি দিক হলো অতীতের আন্দোলননির্ভর রাজনীতি থেকে রাষ্ট্র পরিচালনামুখী রাজনীতিতে গুরুত্ব দেওয়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে দলটি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তার ভিত্তিতে এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রশ্নটি সামনে এসেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষকের ন্যায্য মূল্য, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিকাশ এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার মতো বিষয়গুলো জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাস্তবায়নের ফলাফলই হবে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের প্রধান মাপকাঠি।
জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনে জাতীয় ঐক্যের বিষয়টি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। তার ১৯ দফা কর্মসূচিতে স্বনির্ভর অর্থনীতি, উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই রাজনৈতিক ধারা সংসদীয় রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে। তারেক রহমানের ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। সময়ের ব্যবধানে কর্মসূচির ভাষা ও অগ্রাধিকার বদলালেও রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ এবং জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশ্নটি এই রাজনৈতিক ধারার আলোচনায় রয়ে গেছে। এখানে ৭ নভেম্বরের সঙ্গে বর্তমান রাজনীতির একটি যোগসূত্র রয়েছে। ১৯৭৫ সালের অস্থিরতার পর জিয়াউর রহমান যে রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক শক্তি তৈরি করা। সেই সংগঠন আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে। ফলে প্রতিষ্ঠাতার রাজনৈতিক দর্শনকে স্মরণ করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রকে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে রাখার মধ্য দিয়ে সেই দর্শনের বাস্তবতা প্রমাণ করতে হবে।
জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছেও ৭ নভেম্বরের আলাদা আবেগ ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। বগুড়ার বাগবাড়িতে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি জাতীয় রাজনীতিতে যে অবস্থান তৈরি করেছিলেন, তা তাকে স্থানীয় পরিচয়ের গন্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তার প্রতিষ্ঠিত দলের বর্তমান নেতৃত্বের কাছেও উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। সুতরাং ৭ নভেম্বর বিএনপির জন্য নিজেদের রাজনৈতিক দর্শন, সাংগঠনিক ঐতিহ্য এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার নতুন করে মূল্যায়নের দিন। জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থান, বহুদলীয় রাজনীতির বিকাশে তার ভূমিকা, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের দীর্ঘ পথচলা এবং তারেক রহমানের বর্তমান নেতৃত্ব, সব মিলিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি ধারাবাহিকতার প্রতীক।
ইতিহাসে একজন নেতার পরিচয় তার সময়ের কর্মকান্ড দিয়ে তৈরি হয়, আর উত্তরসূরিদের মূল্যায়ন হয় তারা সেই ঐতিহ্যকে কতটা কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে পারেন তার ভিত্তিতে। জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করার অর্থ হবে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা, রাজনৈতিক সহনশীলতা, জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা। তারেক রহমানের নেতৃত্বের সামনেও এখন সেই প্রত্যাশা।
৭ নভেম্বরের প্রকৃত রাজনৈতিক শিক্ষা এখানেই, রাজনীতির গতিপথ সুশৃঙ্খল রাখতে হলে প্রয়োজন শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা। জিয়াউর রহমান যে রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেছিলেন, তার ভবিষ্যৎ সাফল্য নির্ভর করবে সেই ধারাকে কতটা গণতান্ত্রিক, জনমুখী ও কার্যকর করে তোলা যায় তার ওপর।
জনমুখী রাজনীতি করতে হলে তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত যোগাযোগের বিকল্প নেই। নেতাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাজনীতি করতে হয়; জনগণ পাশে না থাকলে কোনো শক্তি বা আয়োজন দিয়েই রাজনীতিতে সফল হওয়া সম্ভব নয়। আর জনগণের সেবা করা, তাদের বিপদে-আপদে পাশে থাকা এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতিই আজ আপনাকে নেতা হয়ে উঠতে সহযোগিতা করেছে। তাই জনগণের সেই আস্থা ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষা করাই একজন প্রকৃত নেতার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য ধরে রাখা কিংবা বাংলাদেশের মহানায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেটিই নির্মাণ করেছেন, ধারণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সেই পথ ধরেই হাঁটছেন। একই সরলরেখায় হাঁটতে পারলেই মিলবে মুক্তির পথ।
লেখক : সদস্য, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট
পরিচালনা পরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বগুড়া,
সমন্বয়কারী, বিএনপি মিডিয়া সেল ,
বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক দিনকাল ,
আঞ্চলিক প্রধান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) বগুড়া অফিস এবং
সাধারণ সম্পাদক, বগুড়া প্রেসক্লাব।