ফিড, ওষুধ ও বিদ্যুতের চড়া দামে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে খামারিদের মাথায় হাত

ফিড, ওষুধ ও বিদ্যুতের চড়া দামে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে খামারিদের মাথায় হাত

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: প্রতিদিন খাবার, ওষুধ, বিদ্যুৎ, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন মুরগি খামারিরা। একদিকে বাড়ছে উৎপাদন উপকরণের দাম, অন্যদিকে কমছে মুরগি ও ডিমের বিক্রয়মূল্য। ফলে ঋণ ও সঞ্চয়ের টাকা বিনিয়োগ করে গড়ে তোলা খামার টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি অনিশ্চয়তায় পড়েছে এ শিল্পের সাথে যুক্ত কয়েকশ’ শ্রমিকের জীবিকাও।

উপজেলার খামারিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি বস্তা ফিডের দাম ছিল ৩ হাজার ৩শ’ টাকা, অক্টোবরে তা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৫শ’ টাকা। এতে করে শুধু ফিডের দাম বাড়ায় খামারিদের মাসিক ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ। এছাড়া মুরগির বাচ্চার দাম, বিভিন্ন ওষুধের দাম, তুষ, কাঠের গুঁড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ মুরগি উৎপাদনে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে, সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৪২ টাকা দরে বিক্রি হলেও অক্টোবরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২৮ টাকায়।

আহসান পোল্ট্রি ফার্মের স্বত্বাধিকারী আহসান হাবীব হাসান বলেন, ফিড, বাচ্চা, ওষুধ, বিদ্যুৎ বিল ও গাড়িভাড়াসহ সবকিছুর দাম বাড়ছে। অথচ মুরগি বিক্রি করতে হচ্ছে কম দামে। ঋণ করে খামার শুরু করেছিলাম। এখন সেই ঋণ পরিশোধ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। নাজিমখান ইউনিয়নের মনিডাকুয়া গ্রামের খামারি আতিকুর রহমান বলেন, আগে সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা লাভ হত। এখন লাভের কথা বাদ দিয়ে আসল পুঁজি টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

শুধু ব্রয়লার নয়, ডিম উৎপাদনকারী খামারিরাও বিপাকে রয়েছেন। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সুখদেব গ্রামের খামারি আবুল কালাম জানান, বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে খরচ পড়ছে সাড়ে ৮ থেকে ৯ টাকা। অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকায়। ফলে লাভ থাকছে খুবই সামান্য, কখনো লোকসানও গুনতে হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেলা পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিয়াকত আলী রিটু বলেন, অনেক উদ্যোক্তা পুঁজি হারিয়ে ইতোমধ্যে পোল্ট্রি ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। খামারিদের টিকিয়ে রাখতে ফিড ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্যিক হারের পরিবর্তে কৃষকদের মতো বিশেষ হারে বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

রাজারহাট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রহমত আলী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। অন্যদিকে, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ফিডের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস ও বিদ্যুৎ বিলে ভর্তুকির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে খামারিরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/190116