জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করা শক্তিই আওয়ামী লীগকে শেল্টার দিচ্ছে: ছাত্র অধিকার পরিষদ

জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করা শক্তিই আওয়ামী লীগকে শেল্টার দিচ্ছে: ছাত্র অধিকার পরিষদ

ঢাবি প্রতিনিধি:  জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী শক্তিকে পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও দলটির দোসরদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। সংগঠনটির নেতাদের দাবি, জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা শক্তিগুলোই আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে শেল্টার দিচ্ছে এবং ফ্যাসিবাদকে পুনরায় ফিরে আসার পথ তৈরি করছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব অভিযোগ করেন।

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সিলিন্ডার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, শিল্প খাতে শ্রমিক অসন্তোষ, সংবিধান সংস্কার এবং আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সাবলেটে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উচ্ছেদসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি নেওয়াজ খান বাপ্পি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নুরুল হক নুর, সংগঠনটির সভাপতি নাজমুল হাসানসহ ছাত্র অধিকার পরিষদের ত্যাগী নেতাদের পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিকভাবে মাইনাস করা হয়েছে। এনসিপিসহ জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা দলগুলোই আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে আখ্যায়িত করা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে জামায়াত-শিবির ও জোটের নেতাদের ফুল ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করে নেওয়া জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানির শামিল। এনসিপি ও তাদের জোট ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মাদের পুনর্বাসন করছে। কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করায় হাসনাত-সারজিসরা তাঁদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সংগঠনটির সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, গতকাল সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভায় অংশ নিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদ গণভোটে দেশের প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে (পিএসসি) কোনোভাবেই দলীয়করণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের ক্যাডার হিসেবে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জুলাই সনদের আলোকে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার দাবিও জানান তিনি। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের সমালোচনা করে নাজমুল হাসান বলেন, “এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে দ্বিমুখী নীতি দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হয় জামায়াতের সঙ্গে চললে যেকোনো হারাম কাজ রাতারাতি হালাল হয়ে যায়। এসব সুবিধাবাদী নীতি পরিহার করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়ন করতে হবে।” সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাহতাপ ইসলাম। তাঁরা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও এর অর্থের জোগান দিতে হবে জনগণের দেওয়া ভ্যাট ও কর থেকে। তাই শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়ন নয়, বেসরকারি খাতের কর্মজীবী, শ্রমজীবী মানুষ ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পেছনে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। এ পরিস্থিতিতে পুলিশকে দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান সংগঠনটির নেতারা। এ ছাড়া আজিমপুর সরকারি কলোনির কোয়ার্টারে সাবলেটে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের মাত্র তিন দিনের নোটিশে উচ্ছেদের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান তাঁরা। শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/189871