ফরিদপুরে মালয়েশিয়া প্রবাসীসহ তিনজনকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

ফরিদপুরে মালয়েশিয়া প্রবাসীসহ তিনজনকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

ফরিদপুরে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে মালয়েশিয়া প্রবাসীসহ একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরের দিকে শহরতলীর কানাইপুর ইউনিয়নের খাসকান্দি গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- ওই গ্রামের বাসিন্দা ও মালয়েশিয়া প্রবাসী মোজাফফর হোসেন মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪৬) ও মেজ ভাই লাল মিয়া (৬০)। তাদের বড় ভাই মকবুল হোসেন মিয়ার (৬০) বিরুদ্ধে বহিরাগতদের নিয়ে এ হামলার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই তাদের পৈতৃক জমিজমাসহ ক্রয়কৃত জমিও দখল করে রেখেছেন। এমনকি বিভিন্ন সময় তাদের উচ্ছেদ করা থেকে শুরু করে গাছপালা কেটে নেওয়া হয়। এর প্রতিবাদ করে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-মীমাংসা এবং আদালতে বাটোয়ারা মামলা করলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মকবুল হোসেন মিয়া। এর জের ধরে কাটাকাটির এক পর্যায়ে ২০ থেকে ২৫ জনের দল নিয়ে অতর্কিতভাবে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় প্রবাসী মোজাফফর হোসেন মিয়াকে এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। তাকে ঠেকাতে গেলে স্ত্রী ও মেজ ভাইকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। এক পর্যায়ে আহত অবস্থায় তাদের অবরুদ্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন। পরে জাতীয় জরুরিসেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোজাফফর হোসেন জানান,আমি দীর্ঘ ৩০ বছর মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছি। গত দেড়মাস আগে ছুটিতে দেশে এসেছি। আমি প্রবাসে অবস্থানকালীন পৈতৃক জমিজমা বড় ভাই দখলে নিয়ে যায় এবং আমার পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। এসব কারণে দেশে আসতে বাধ্য হয়েছি। এছাড়া জমি বুঝিয়ে নিতে আমি আদালতে বাটোয়ারা মামলা করেছিলাম। ওই মামলায় গতকাল শুনানি ছিল, সেখানেও উপস্থিত হয়নি। এছাড়া মামলায় আমি ন্যায়বিচার পাবো। এসব নিয়ে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আজ বহিরাগতদের নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়েছে। আমি একজন প্রবাসী, আমার পরিবার আজ নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।

হামলার বিষয়ে স্বীকার করে ভিন্ন অভিযোগ করে মকবুল হোসেন মিয়া বলেন, আমার জমির চাষের ধান কেটে রাখা হয়েছিল, সেই কাটা ধান গাড়িতে করে নিতে যায় তারা। তখন বাধা দিলে মারামারির ঘটনা ঘটে। আর মারামারি হলেতো কেউ না কেউ আহত হয়, আমার স্ত্রীও আহত হয়েছে।

এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/189856