সাভারে পোশাকশ্রমিকদের তাণ্ডব, সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত ৫০

সাভারে পোশাকশ্রমিকদের তাণ্ডব, সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত ৫০

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সাভারের উলাইল ও হেমায়েতপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনায় সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা।

আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৮টার দিকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের সামনে এবং সকাল ৯টার দিকে উলাইলের আল মুসলিম গ্রুপের সামনে সংঘর্ষ শুরু হয়।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মাসিক মজুরির দাবিতে শ্রমিকেরা পদ্মার মোড় এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা সড়কে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। সংঘর্ষে ওসি সাইফুল আলম, পুলিশ সদস্য, শ্রমিক, সাংবাদিক ও পথচারীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সকাল ৯টার পর শ্রমিকেরা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে পদ্মার মোড়, হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করলে দুই পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।

শিল্প পুলিশ সূত্র জানায়, শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আত্মরক্ষায় পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের পর পদ্মার মোড় ও আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করে।

উলাইল এলাকাতেও শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাক্‌বিতণ্ডা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সেখানে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ।

শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় হেমায়েতপুর, উলাইলসহ আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তায় বিজিবির তিন প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জানান, শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের একটি অংশ পরে শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরে যান।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন বলেন, সকালে পদ্মার মোড় এলাকায় একসঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ হাজার শ্রমিক দুই দিক থেকে জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করলে পুলিশ প্রতিরোধ করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা সাভার মডেল থানার ওসির গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। তাদের হামলায় ওসি গুরুতর আহত হন।

সাভারে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি ঢাকা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইমুন বলেন, ‘এখানে তিন প্লাটুনের মতো সদস্য মোতায়েন হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায়, আশুলিয়াতেও আছে, সাভারেও আছে। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, যাদের আসলে কোনো লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নেই, তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাচ্ছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, এখানে খুব বেশি শ্রমিক নেই। অধিকাংশই মিসক্রিয়েটর, যারা সমস্যা সৃষ্টি করছে। যারা সমস্যা করছে, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কাজ করছি।’

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/189824