শেখ হাসিনার সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা দেওয়া হবে শহীদ পরিবারকে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত পলাতক আসামিদের সম্পত্তি দ্রুত সরকারি হেফাজতে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এসব সম্পত্তি শনাক্ত ও মূল্যায়ন করে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫০ শতাংশ বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শহীদদের পরিবারের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেবে প্রসিকিউশন।
এ তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফসহ প্রায় ১১ থেকে ১২ জনের নাম রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর গত এক বছরে দুটি ট্রাইব্যুনাল থেকে আটটি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ প্রায় ৭২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যেসব আসামি গ্রেফতার বা কারাগারে রয়েছেন, তাদের কেউ কেউ আইন অনুযায়ী আপিল করেছেন। তাদের আপিল নিষ্পত্তির পর রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি নির্ধারিত হবে। তবে পলাতক যেসব আসামি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করেননি, তাদের ক্ষেত্রে আপিলের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়েছে বলে মনে করছে প্রসিকিউশন। ফলে তাদের গ্রেফতার করা হলে রায় কার্যকরে আইনগত বাধা থাকার কথা নয়।
পলাতক আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিরা আপিল না করায় তাদের সম্পত্তি হস্তান্তর বা বিক্রি করে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সম্পত্তিগুলো দ্রুত সরকারের হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে প্রসিকিউশন।
তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় ও আদেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে রায় বাস্তবায়নে প্রসিকিউশনের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে সরকারকে জানানো প্রয়োজন। এ কারণে আজই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/189714