আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরিতে যে আমল করতে হয়

আল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরিতে যে আমল করতে হয়

নামাজের আধ্যাত্মিক শক্তির আমরা অনেকেই অনুভব করি না। আমরা মনে করি,  নামাজ শুধু আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, তাই আমাকে পালন করতে হয়। নামাজের যে একটা স্পিরিচুয়াল বা আধ্যাত্মিক বিশাল বড় শক্তির জায়গা আছে, এটা আমরা অনেকে অনুভব করি না।

ইসলামে ইমানের পর সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিধানের নাম হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। ইমানের পর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিধান ইসলামে নেই।

নামাজ এত গুরুত্বপূর্ণ যে, কোরআনুল কারীমে সালাতুল খাওফ বা যুদ্ধকালীন নামাজ সম্পর্কিত বিধান দেওয়া হয়েছে। যদি মুসলমানরা সম্মুখ সমরে লিপ্ত থাকে, এই অবস্থায় নামাজ পড়ার সময় হলে যোদ্ধাদের একটা দল শত্রুপক্ষের সঙ্গে লড়াই করবে, আত্মরক্ষা করবে। আরেকটা দল একজন ইমামের অধীনে এক রাকাত নামাজ পড়বে। এক রাকাত নামাজ পড়ে শেষ করার পর তারা চলে যাবে। অথচ এক রাকাত নামাজ পড়ে তো নামাজ শেষ হয় না। সালাতুল খাওফ দুই রাকাতের নামাজ।

মুসাফির অবস্থায় যেমন চার রাকাত ফরজ নামাজ দুই রাকাত আদায় করতে হয়, সালাতুল খাওফও দুই রাকাত আদায় করতে হয়। এক রাকাত পড়ে তারা চলে যাবে এবং রণাঙ্গনে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। এতক্ষণ যারা যুদ্ধে ছিল, তারা এসে ওই ইমামের পেছনে দ্বিতীয় রাকাতে জয়েন করবে। তার মানে এটা তাদের প্রথম রাকাত হবে। এরপর এরা আবার এক রাকাত পড়ে চলে যাবে। প্রথম যে গ্রুপটা এক রাকাত পড়েছিল, তারা আবার ব্যাক করে দ্বিতীয় রাকাত পড়বে। এর মধ্যে ইমামের নামাজ শেষ হয়ে যাবে, তারা নিজেরা একা একা দ্বিতীয় রাকাত শেষ করবে। তারা যাওয়ার পরে দ্বিতীয় গ্রুপ এসে তাদের দ্বিতীয় রাকাত আদায় করবে।

একটিবার ভাবুন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তো বলে দিতে পারতেন, যেহেতু জীবন রক্ষার প্রশ্ন, লড়াই করো, এখন নামাজ দরকার নাই, জীবন বাঁচলে তখন আবার নামাজ পড়বে। ইসলামের নামাজের ইম্পর্টেন্স কোন স্তরে হলে এইরকম পরিস্থিতিতে পর্যন্ত রাকাত ভাগ করে নামাজ পড়ার বিধানও দেওয়া হয়েছে! এই বিধান নামাজের গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করে।

আমরা জানি আমাদের প্রিয় নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল নামাজ। নবীজি যখনই কোনো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তেন, নামাজের দিকে ধাবিত হতেন। যখনই মন খারাপ থাকত, পেরেশান হতেন, বেলালকে (রা.) বলতেন, ‘আরিহনা ইয়া বেলাল!’ ‘হে বেলাল, একটু আজান হাঁকো! একটু আজান হাঁকো, আজান হেঁকে নামাজের আয়োজন করো, আমাকে শান্ত করো, আমাকে একটু প্রশান্তি দাও।’

আয়েশা (রা.) বলছেন, নবীজি যখন রাতে নামাজে দাঁড়াতেন, নবীজির সে নামাজের সৌন্দর্যের কথা আর জিগেস কোরো না! তিনি যখন দাঁড়িয়ে কেরাত পড়তেন, মনে হতো তিনি বোধহয় আর রুকুতে যাবেন না। এরপর তিনি যখন রুকুতে যেতেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে রুকু করতেন যে আমার মায়া হতো, তিনি কি আর মাথা উঁচু করবেন না? আবার যখন সিজদায় যেতেন, মনে হতো এই বুঝি তাঁর জীবনের শেষ সিজদা, আর মনে হয় মাথা ওঠাবেন না! এত দীর্ঘ সময় নিয়ে নামাজ পড়তেন, এত লম্বা সময় নিয়ে নামাজ পড়তেন এবং নামাজে দাঁড়িয়ে এত লম্বা সময় রুকুতে-সিজদায় অতিবাহিত করতেন যে, তাঁর পা মোবারক ফুলে যেত।

পা ফুলে যাওয়া কিন্তু কোনো স্বাভাবিক বিষয় না। আপনি অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকলে একটা পজিশনে থাকলে হয়তো পা ব্যথা হয়ে যাবে, পা ফুলবে না। কী পরিমাণ প্রেশার নিলে পা ফুলে যেত চিন্তা করে দেখুন!

আজ দুর্ভাগ্য আমাদের যে, আমাদের কাছে নামাজ জাস্ট বোঝা! নামাজের সময় আসলে দ্রুত নামাজ পড়ে আমরা মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করি। মানে নামাজ পড়লাম, ঝামেলা শেষ হয়ে গেল! অথচ এটা আল্লাহর সাথে কানেক্টেড হওয়ার সুযোগ, আমার দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।

সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামাজকে বলেছেন মোনাজাত বা আল্লাহর সাথে কথোপকথনের সুযোগ। অথচ এটা আজকে আমাদের কাছে বোঝা হয়ে গেছে!

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/189503