বাড়িতে ডিজে পার্টি, পুলিশের অভিযান: সেই অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত
রাজধানীর খিলক্ষেতে নিজের ভাড়া দেয়া বাড়িতে ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চালানো অভিযানের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির। বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার ও ৮৪ জনকে আটকের পর তাকে প্রথমে ওএসডি করা হয়েছিল।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তার সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ‘পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হওয়া এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন’ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন পুলিশ হাউজিং-১ এলাকার ওই তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বাড়িটির মালিক আব্দুল্লাহ আল জহির পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-২) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ডিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে সারা রাত ধরে ডিজে পার্টি, মাদক সেবন ও মাদকের কারবার চলছিল বলে অভিযোগ ছিল। অভিযানে ২৬ নারী ও ৫৮ পুরুষসহ মোট ৮৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে আফগানিস্তানের একজন নাগরিকও ছিলেন।
অভিযানকালে বাড়ি থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদ এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক আব্দুল্লাহ আল জহিরকে ওএসডি করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল।
ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, আব্দুল্লাহ আল জহির এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলছিল।
ডিবির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইলিয়াস কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িটি একজন হোস্ট ও কো-হোস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। এ ঘটনায় কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকে আটক করা হয়েছিল।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/189326
তবে বাড়ির মালিক আব্দুল্লাহ আল জহিরের দাবি ছিল, বাড়িটি এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলার প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত। জন্মদিনের অনুষ্ঠান কিংবা গায়ে হলুদের মতো আয়োজনের জন্য বাড়ির উঠান ভাড়া দেয়া হতো। সেখানে মাদক বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ভাড়া দেয়া বাড়িতে ভাড়াটিয়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করলে তার দায় বাড়ির মালিকের ওপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।