বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে এআই (AI) বিষয়ক সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণী

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে এআই (AI) বিষয়ক সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণী

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে ‘Unlocking the Power of AI: Inspiring Excellence and Appraisal Ceremony 2026’ শীর্ষক সেমিনার ও সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সমসাময়িক প্রভাব, সম্ভাবনা ও প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অর্জন ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক সেমিনারে মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিতাস আহমেদ, সিনিয়র বিজনেস ইন্টেলিজেন্স অ্যানালিস্ট, ব্র্যাক আইটি সার্ভিসেস লিমিটেড এবং নিদাল সিদ্দিকী অরিত্র, সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজার, CHEQ, 365 Retail Marketing। তাঁরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে এর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁদের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতাকে সমন্বিত করার গুরুত্ব উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুল্লাহ। বিভাগের শিক্ষকবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দুই পর্বে সাজানো এ অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে অনুষ্ঠিত হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক সেমিনার। এতে শিক্ষার্থীরা AI-এর বিভিন্ন দিক, এর সম্ভাবনা এবং শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে এর প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে ধারণা লাভের সুযোগ পান।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের D-AID Club-এর আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি সেমিস্টারব্যাপী পরিচালিত বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, কৃতিত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে ইনডোর গেমস, রচনা প্রতিযোগিতা, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতা, পোস্টার প্রতিযোগিতা এবং বুক রিভিউ কার্যক্রমে কৃতিত্বের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া স্বেচ্ছায় রক্তদান, শ্রেণি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বিভাগীয় কার্যক্রমে অবদানের জন্য শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষককেও সম্মাননা জানানো হয়।
আয়োজনটির অন্যতম বিশেষ দিক ছিল শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়ন করা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে বিভাগের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়।

বিভাগের D-AID Club ক্লাবের শিক্ষার্থীদের সক্রিয় সহযোগিতা, পরিকল্পনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুরো অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়িত হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ মনে করে, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত সচেতনতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, নেতৃত্বের বিকাশ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/189285