বগুড়ার পাঁচটিসহ রাজশাহী বোর্ডে ৩৯ কলেজের কেউ পাস করেননি

বগুড়ার পাঁচটিসহ রাজশাহী বোর্ডে ৩৯ কলেজের কেউ পাস করেননি

স্টাফ রিপোর্টার : ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বগুড়ার পাঁচটিসহ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীন আট জেলার ৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১৮৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য। 

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৬ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন বগুড়ার গাবতলীর তাসলিম উদ্দিন তরাফদার কলেজে। অন্যদিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন করে পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তবে সার্বিকভাবে ফল বিপর্যয়ের এই বিষয়টিকে শিক্ষাবিদরা বলছেন, এটিই বাংলাদেশের আসল চিত্র। এছাড়াও এই শিক্ষার্থীরাই ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়ে মাঠে ছিল। এই বিপর্যয় এসএসি এবং এইচএসসি দু’টোতেই পড়ছে।

আজ শনিবার শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলের তালিকা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। জেলাভিত্তিক হিসেবে, নাটোরের ১২টি প্রতিষ্ঠানের ৫২ জন, নওগাঁর ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ৩২ জন, বগুড়ার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ৫৪ জন, রাজশাহীর ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ১৭ জন, সিরাজগঞ্জের চারটি প্রতিষ্ঠানের ছয়জন, পাবনার তিনটি প্রতিষ্ঠানের ১৬ জন, জয়পুরহাটের দুটি প্রতিষ্ঠানের আটজন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠানের একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাদের কেউই পাস করতে পারেননি।

বগুড়ার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গাবতলীর তাসলিম উদ্দিন তারাফদার কলেজ থেকে সর্বোচ্চ ৪৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এছাড়া বাগবাড়ী মডেল মহিলা কলেজ থেকে তিনজন, ধুনটের গোসাইবাড়ী উইমেন্স কলেজ থেকে দু’জন, কাহালুর দুর্গাপুর আইডিয়াল উইমেন্স কলেজ থেকে দু’জন এবং একই উপজেলার আল্লামের তাকিয়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন পরীক্ষায় অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের ৫৪ জনের কেউ পাস করেননি।

নাটোরের ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গুরুদাসপুরের বঙ্গবন্ধু সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি বিএম ইনস্টিটিউট থেকে ১২ জন, নাটোর সদরের আবুল খায়ের কলেজ থেকে আটজন এবং নলডাঙ্গার ছাতারভাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাঁচজন পরীক্ষায় অংশ নেন। 

এছাড়া নাটোর সদরের বেগম খালেদা জিয়া কলেজ ও এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার কলেজ, লালপুরের রাধাকান্তপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সিংড়ার আগপাড়া শেরকোল বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে চারজন করে পরীক্ষার্থী ছিলেন। গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও লালপুরের মাঝগ্রাম হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে তিনজন করে, নলডাঙ্গার সারকুটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও গুরুদাসপুরের দুর্গাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন করে এবং নাটোর সদরের হয়বতপুর মাল্টিলেটারাল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন পরীক্ষায় অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের ৫২ জনের কেউ পাস করেননি।

নওগাঁর ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়ামতপুরের শাংশোইল আদিবাসী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৫ জন, রাজাপুর বটতলীহাট মহাবিদ্যালয় থেকে আটজন এবং মান্দার মান্দা এসসি মডেল পাইলট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ছয়জন পরীক্ষায় অংশ নেন। এছাড়া সদর উপজেলার হাপানিয়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, মহাদেবপুরের আরিফ মেমোরিয়াল কলেজ এবং ঘোনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ থেকে একজন করে পরীক্ষার্থী ছিলেন। তাদের কেউ পাস করেননি।

রাজশাহীর ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাঘার তেঁতুলিয়া পিরগাছা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ অ্যান্ড ভোকেশনাল, বাগমারার পিরগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বৈয়লসিংহ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে তিনজন করে পরীক্ষায় অংশ নেন। কাতিলা সবুজ সংঘ আদর্শ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন এবং নগরীর মতিহার এলাকার রাজশাহী কমার্স কলেজ ও পুঠিয়ার বেলপুকুরিয়া উইমেন্স কলেজ থেকে একজন করে পরীক্ষার্থী ছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের ১৭ জনের কেউ পাস করেননি।

সিরাজগঞ্জের চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছাতিয়ানতলী মোরগ্রাম টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে তিনজন এবং এস বি রেলওয়ে কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ছোনগাছা উইমেন্স কলেজ ও তারাশ উপজেলার রানীহাট আইডিয়াল কলেজ থেকে একজন করে পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

পাবনার তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাঁথিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক টুকু কলেজ থেকে ১০ জন, ছোন্দহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে চারজন এবং বেড়ার ঢালারচর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন পরীক্ষায় অংশ নেন। এ তিন প্রতিষ্ঠানের ১৬ জনই অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। জয়পুরহাটের শালপাড়া আইডিয়াল কলেজ থেকে সাতজন এবং কালাইয়ের মোলামগাড়ী আদর্শ কলেজ থেকে একজন পরীক্ষায় অংশ নেন। অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট কলেজ থেকে অংশ নেন একজন। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।

এদিকে এবারের ফলাফলকে সেই অর্থে বিপর্যয় বলছেন না শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, এটিই আসল ফলাফল। তবে ২৪ এর আন্দোলনসহ অন্তবর্তী সরকারের সময় বছরজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এই বিপর্যয়কে কিছুটা ত্বরান্বিত করেছে। 

বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. বেল্লাল হোসেন বলেছেন, এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পাশের হারকে ফল বিপর্যয় বলা যাবে না। এটাই স্বাভাবিক ফল। অতীতে সরকারের উচ্চ মহল থেকেই পাশের হার বেশি করে দেখানোর একটা প্রবণতা ছিল। রাজশাহী বোর্ডে শূন্য পাশ গত বছরের তুলনায় সামান্য একটু বেড়েছে। এটা ফল বিপর্যয় নয়। শিক্ষার্থী ও কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এটার জন্য দায়ী। আরেকটি কারণ রয়েছে। সেটা ২৪ এর আন্দোলন। এ আন্দোলন কিছুটা হলেও এদের এসএসসি লেভেলে পড়ালেখায় ঘাটতি ফেলেছে।

জয়পুরহাট সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. গাজী তৌহিদুল আলম বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় ফল বিপর্যয়  হয়েছে বলতে পারি।  কিন্তু আমরা যদি ৯০ এর দশকের দিকে তাকাই সে তুলনায় ফলাফল ততটা খারাপ না। এবছরে প্রশ্ন প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ, খাতা মূল্যায়নের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে একটু হলেও যে লাগাম টেনে ধরা হয়েছে সেটার কারণে  যথাযথ ফলাফল। যা হবার  তাই হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/189278