এআইয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে দেড় কোটি মানুষ কাজ হারাতে পারে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দেড় কোটি মানুষ কাজ হারাতে পারে। তবে এই বিশাল চাকরিচ্যুতির ধাক্কা এখনই বোঝা না–ও যেতে পারে। গোল্ডম্যান স্যাক্সের অর্থনীতিবিদদের মতে, এআইয়ের কারণে দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯ শতাংশ কর্মী বা দেড় কোটি মানুষ তাদের কাজ হারাবে।
চার দশকের কর্মসংস্থানের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ ব্যাংকটি জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই প্রভাব কেবল প্রাথমিক চাকরিচ্যুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব এবং ধীরগতির বেতন বৃদ্ধির মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রযুক্তির কারণে বড় ধরনের কর্মহীনতার ঢেউ সাধারণত অর্থনৈতিক মন্দার সময়েই বেশি দেখা গেছে। ফরচুন সাময়িকীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই-নির্ভর পেশায় কর্মরতদের মধ্যে ইতিমধ্যেই এর প্রাথমিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। গোল্ডম্যানের অর্থনীতিবিদ পিয়েরফ্রান্সেস্কো মেইয়ের মতে, ২০২৫ সালের পর এআইয়ের কারণে চাকরি হারানো ব্যক্তিরা অন্যদের তুলনায় নতুন কাজ পেতে গড়ে এক মাস বেশি সময় নিচ্ছেন। এ ছাড়া চাকরি হারানোর এক বছর পরও তাদের বেকার থাকার আশঙ্কা ১০ শতাংশ বেশি।
এআইয়ের কারণে কর্মহীনতার এই ধাক্কা বিশেষ করে বয়স্ক কর্মীদের জন্য বেশি কঠিন। ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মীরা, যারা এআইয়ের কারণে কাজ হারিয়েছেন, তাদের নতুন করে পূর্ণকালীন কাজে ফিরতে অন্যদের তুলনায় প্রায় পাঁচ সপ্তাহ বেশি সময় লাগছে। অন্যদিকে ৩৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে এই সময়ের ব্যবধান প্রায় তিন সপ্তাহ। ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৭৪ লাখ কর্মী চাকরি হারিয়েছেন, যা আগের জরিপের ৬৩ লাখের চেয়ে বেশি।
এ ছাড়া চ্যালেঞ্জার, গ্রে অ্যান্ড ক্রিসমাসের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এআইয়ের কারণে ১ লাখ ২০ হাজার ১৩৬ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে, যা মোট ছাঁটাইয়ের প্রায় ২১ শতাংশ। গোল্ডম্যান স্যাক্সের মতে, তুলনামূলক কম বয়সী, শিক্ষিত ও শহুরে কর্মীরা প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারলেও, এআইয়ের পুরো প্রভাব মূল্যায়ন করা এখনই সম্ভব নয়। স্ট্যানফোর্ডের ডিজিটাল ইকোনমি ল্যাবের গবেষণায়ও এআই-নির্ভর পেশায় নিয়োগের ক্ষেত্রে ধীরগতির তথ্য উঠে এসেছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/189232