ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বৃষ্টি, দিনরাতের তাপমাত্রা কমে শীতের আগমণী বার্তা

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বৃষ্টি, দিনরাতের তাপমাত্রা কমে শীতের আগমণী বার্তা

স্টাফ রিপোর্টার : ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে গত বুধবার থেকে রোদের তীব্রতা কমে দেশের বেশিভাগ এলাকায় হালকা ও মাঝারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এদিন থেকেই সকালে রোদের দেখা মেলে তো দুপুরে আকাশ মেঘলা হয়ে নামে বৃষ্টি। গতকাল বৃহস্পতিবারও বিকেলে বৃষ্টি শুরু হয়ে চলে থেমে থেমে সকাল পর্যন্ত। আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদ দেখা দিলেও দুপুরের পর আবারও মেঘের আড়ালে তা ঢাকা পড়ে।

বিকেলে আকাশ দেখে মনে হচ্ছিল এই বুঝি ঝুম বৃষ্টি নামবে। এতে দীর্ঘদিনের গরম আবহাওয়ার পর স্বস্তি পেয়েছে মানুষ। দিনভর গরম থাকলে ও কয়েকদিন হলো সকাল ও রাতের কুয়াশা শীতের আগমনও জানান দিচ্ছে। আজ কার্তিক মাসের ১৫ তারিখ।

প্রকৃতিতে চলছে হেমন্ত কাল। ষড়ঋতুর এই দেশে পৌষ-মাঘ শীতকাল হলেও হেমন্তেই গুটি গুটি পায়ে প্রকৃতিতে আসে ভাললাগার মিষ্টি শীত। এবারের পুরো মৌসুম জুড়েই ছিল গরম ও তাপ প্রবাহের ঘণঘটা। ক’দিন হলো ভোররাতে প্রকৃতিতে শুরু হয়েছে শীতের আগমণী শিরশিরে বাতাস। সকালের শিশিরসিক্ত মাটিতে ঝরা শিউলি ফুল আর ঘাসের ডগার শিশিরবিন্দু ঝিকমিকিয়ে উঠছে সকালের সোনা রোদের পরশে।

বগুড়া শাখারিয়া এলাকার কৃষক আব্দুস সালাম জানান, গত কয়েকদিন থেকে হালকা কুয়াশা পড়ছে। সকালে ঠান্ডা অনুভূত হলেও দিন বাড়ার সাথে সাথে ফ্যান ফুল স্পিডে দিয়ে রাখতে হতো মধ্যরাত পর্যন্ত। কিন্তু গত দুইদিন হলো সকালে ফ্যানের স্পীড কমিয়ে দিতে হচ্ছে। এভাবে সুর্য্যরে তেজ কমে গেলে এবার মনে হচ্ছে কার্তিক মাসেই শীত পড়বে।

শুধু বগুড়াতে না দেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নওগাঁ, কুড়িগ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে কয়েকদিন থেকে  দিনের তাপমাত্রা কমেছে আর রাতে শীত অনুভূত হচ্ছে। ভোরে  ও রাতে কুয়াশা পড়ছে। তবে ঘণ কুয়াশা ও পুরোপুরি শীত আসতে  কার্তিক মাস পার করতে হবে।

এদিকে শীতকাল এমন একটা মাস যে মাসের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হয়। ঘরে বাইরে সব জায়গাতে লাগে পরিবর্তনের ছোঁয়া। এজন্য প্রস্তুতিরও শেষ নেই। আর এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাড়ি বাড়ি লেপ কম্বল রোদে দেয়া শুরু হয়েছে। মার্কেটগুলোতে শীতের পোশাকের যোগান বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বগুড়া ও আশেপাশের বাড়ি ও রাস্তার পাশের খেঁজুর গাছের রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা গাছ পরিস্কার শুরু করছেন।

শহরের বিভিন্ন রাস্তার পাশের  ভ্রাম্যমাণ মৌসুমী পিঠা পুলি বিক্রেতারা বসতে শুরু করেছে। ধুনকরদের ব্যস্ততা বেড়েছে। হাটবাজার ও শহরের বাজারে শীতের সবজি উঠতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক শাহ আলম জানান, অর্ণবের প্রভাবে গত বুধবার থেকে বগুড়া, রাজশাহী, রংপুরসহ দেশের বেশিরভাগ স্থানে  হালকা থেকে মাঝারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

এ কারণে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা কমে শিরশিরে বাতাস বইতে শুরু করেছে। নভেম্বর মাসজুড়েই আকাশ থাকবে মেঘলা আবার কখনও দিনের কড়া রোদে পুড়বে প্রকৃতি। আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বগুড়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ দশমিক ৮ ডিগ্রী এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তবে পুরোপুরি শীত পড়বে অগ্রহায়ণ মাসে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/189224