রাজশাহীর তাজা মাছ যাচ্ছে ২৮ জেলায়, দিনে বেচাকেনা ২০ কোটি টাকা 

রাজশাহীর তাজা মাছ যাচ্ছে ২৮ জেলায়, দিনে বেচাকেনা ২০ কোটি টাকা 

রাজশাহী প্রতিনিধি : ধান কিংবা অন্যান্য প্রথাগত ফসলের জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষ এখন রাজশাহী বিভাগের গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এই অঞ্চলের পুকুরগুলো থেকে রুই, কাতলা ও বিভিন্ন কার্পজাতীয় তাজা মাছ পৌঁছে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্তত ২৮টি জেলায়।

বিশেষ প্রযুক্তিতে জীবিত অবস্থায় মাছ পরিবহনের এই ব্যবস্থার কারণে প্রতিদিন রাজশাহী বিভাগ থেকে গড়ে ২০ কোটি টাকারও বেশি টাকার মাছ বেচাকেনা হচ্ছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, পুরো বিভাগে বর্তমানে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫৩টি পুকুরে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৬ খামারি মাছ চাষে যুক্ত রয়েছেন। বিভাগে বছরে মোট মাছ উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৪৬৭ মেট্রিকটন।

এর মধ্যে স্থানীয় চাহিদার যোগান নিশ্চিত করার পরও অতিরিক্ত দেড় লাখ মেট্রিকটন মাছ পাঠানো হচ্ছে দেশের অন্যান্য প্রান্তে। কেবল উৎপাদন ও বিপণন কেন্দ্র করেই এ অঞ্চলে প্রায় ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রথাগত কৃষি উৎপাদনে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা না পাওয়ায় রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকদের বড় একটি অংশ বাণিজ্যিক মাছ চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় মৎস্যখাতে লাভজনক পরিবেশ থাকায় নতুন নতুন উদ্যোক্তা প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছেন এই পেশায়।

বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া জানান, আগে কেবল রাজশাহী জেলায় মিশ্র পদ্ধতিতে চাষাবাদ হলেও বর্তমানে নাটোর, নওগাঁসহ বিভাগের ৮টি জেলাতেই এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়েছে। রুই ও কাতলার পাশাপাশি একই পুকুরে সিলভার কার্প ও দেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সমন্বিত চাষের ফলে পুকুরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে।

এছাড়া পাবদা, শিং, কই ও মাগুর মাছের মতো উচ্চমূল্যের মাছ চাষ করে খামারিরা আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিচ্ছেন। বিশেষ করে এই অঞ্চলের পাবদা মাছ বর্তমানে নিয়মিত ভারতে রপ্তানি হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় প্রতি বছর দেড় হাজারেরও বেশি চাষিকে আধুনিক প্রযুক্তি ও মান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৪ বছর আগে রাজশাহী থেকে তাজা মাছ ঢাকাসহ দূর-দূরান্তে পাঠানোর প্রক্রিয়ার সূচনা ঘটে। আগে পরিবহনের সময় পানির হাউজে মানুষ দিয়ে নাড়াচাড়া করিয়ে অক্সিজেন সচল রাখা হলেও, বর্তমানে ট্রাকে শ্যালো মেশিন বসিয়ে কৃত্রিমভাবে পানির প্রবাহ তৈরি করা হয়।

ফলে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত মাছ পুকুরের মতোই জীবন্ত থাকে। প্রতিদিন বিকেল থেকে শুরু করে ভোররাত পর্যন্ত প্রায় ৫শ’টিরও বেশি বিশেষায়িত ট্রাকে করে প্রতিদিন তাজা মাছ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। প্রতিদিনের এই ট্রাফিকে গড়ে ৭শ’ থেকে ১২শ’ কেজি পর্যন্ত মাছ পরিবহন করা হয়।

রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য অধিদফতরের পরিচালক সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া বলেন, আগে শুধু রাজশাহী অঞ্চলে মিশ্র পদ্ধতিতে মাছ চাষ হতো। এখন বিভাগের অন্য জেলাগুলোতেও এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ হচ্ছে। এছাড়াও পাবদা মাছ নিয়মিতভাবে ভারতেও রফতানি হচ্ছে।

রাজশাহীর চাষিরা নিয়ম মেনে মাছ চাষ করছেন। মৎস্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে বছরে দেড় হাজারের বেশি মানুষকে মাছ চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃষকের মাছ প্রদর্শনের মতো বিভিন্ন কর্মসূচিও নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/189221