রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে পারমাণবিক চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ নিউক্লিয়ার চেইন রিঅ্যাকশন ও চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে এ উৎপাদন শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর আরও একটি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে।

এ পর্যায়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার ভৌত পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা শেষে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্টআপ বা সি-স্টেজের কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেয় বায়েরা। এ ধাপের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা শুরু হয়।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাছান সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে বায়েরার কাছ থেকে পাওয়ার স্টার্ট বা সি-স্টেজের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এ পর্যায়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা যাচাই করা হয়। শূন্য থেকে উৎপাদন শুরু করে ধীরে ধীরে তা বাড়ানো হবে। উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সি-স্টেজে পারমাণবিক চুল্লি, শীতলীকরণ ব্যবস্থা, টারবাইন, জেনারেটর, বিদ্যুৎ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। ধাপে ধাপে চুল্লির ক্ষমতা বাড়িয়ে এসব যন্ত্রপাতির নিরাপদ ও স্থিতিশীল কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ প্রক্রিয়ায় প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত ও স্থিতিশীলভাবে তাপশক্তি উৎপাদন করা সম্ভব হয়। পরবর্তী ধাপগুলোতে উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাই করা হবে।


এর আগে, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা অনুসরণ করে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটের ‘বি-১’ পর্যায়ের পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। তবে স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের পরীক্ষায় জটিলতা দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে ত্রুটি সংশোধন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করে বায়েরার অনুমোদন নেওয়া হয়। গত ১১ অক্টোবর প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া বা ক্রিটিক্যালিটি শুরু হয়।

বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পারমাণবিক চুল্লির ভেতরে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার আচরণ যাচাই এবং উৎপাদনসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি ধাপে পরীক্ষা করা হয়। রূপপুর প্রকল্পের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরুর আগে বায়েরার অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।

এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্যও পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম গত বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য এ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পটির দ্বিতীয় ইউনিট চালুর প্রস্তুতিও এগিয়ে যাচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/189191