ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের ছবি প্রকাশ করল নাসা

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের ছবি প্রকাশ করল নাসা

ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টা আগে বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের একটি ছবি প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। রাতের বেলায় তোলা এই উপগ্রহ চিত্রে ঘূর্ণিঝড়টির তীব্রতা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। শুক্রবার নাসা আর্থ-এর এক্স অ্যাকাউন্টে ছবিটি শেয়ার করে অর্ণবকে ২০২৬ সালের উত্তর ভারত মহাসাগরীয় ঘূর্ণিঝড় মৌসুমের প্রথম নামযুক্ত ঝড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

নাসা জানিয়েছে, বুধবার (২৭ অক্টোবর, ২০২৬) ভারতের স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪২ মিনিটে নোয়া-২০ (NOAA-20) স্যাটেলাইটের সাহায্যে ছবিটি তোলা হয়। স্যাটেলাইটটিতে থাকা বিশেষ ইনফ্রারেড ইমেজিং রেডিওমিটার স্যুটের (VIIRS) মাধ্যমে রাতের বেলায় পৃথিবীর এই চিত্র ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) তথ্যমতে, ছবি তোলার সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার।

২৫ অক্টোবর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড়টি ২৮ অক্টোবর ভোরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে স্থলভাগ অতিক্রম করে। উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় এর বাতাসের গতিবেগ কিছুটা কমে ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটারে নেমে আসে। আইএমডি এ ধরনের গতির ঝড়কে ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে থাকে।

অর্ণবের তাণ্ডবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় শহর, কৃষিজমি ও জেলেপল্লিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নাসার প্রতিবেদনেও এই ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর মতে, ঝড়ের আঘাতে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে, ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেই সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার আগেই উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/189172