৬ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

৬ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি বগি আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লাইনচ্যুত হওয়ার ছয় ঘণ্টা পর বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মহেড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় লাইনচ্যুতির কারণে রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি নীলফামারীর চিলাহাটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ট্রেনটি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া রেল স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই বিকট শব্দে ট্রেনটির পেছনের একটি বগির চাকা লাইন থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যায়। চালক তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি থামিয়ে দিলে বড় ধরনের কোনো বড় দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা। তবে বগিটি লাইনচ্যুত হওয়ার সময় রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার কারণে পুরো লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়ে। হুট করে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রেলস্টেশনগুলোতে আটকা পড়া হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগের শিকার হন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হওয়ায় তাদের কষ্ট আরও তীব্র রূপ নেয়।

দুর্ঘটনার পর লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের জন্য দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী ট্রেন পাঠানো হয়। পরে ঈশ্বরদী থেকে একটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বগি উদ্ধার ও রেললাইন মেরামত শেষে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মহেড়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার রকিবুল হাসান জানান, বর্তমানে ব্রডগেজ রেললাইন চালু আছে। তবে মিটার গেজ এখনও বন্ধ রয়েছে। এতে বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এক কিলোমিটার এলাকায় ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/189076