ঢাকার মাঠের সংকট এক বছরে অনেকটাই কাটবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
আগামী এক বছরের মধ্যে ঢাকার খেলার মাঠের সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ঢাকাসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ফুটসাল গ্রাউন্ড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আমিনুল হক বলেন, ‘গতকালকেও আমরা আমাদের গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী, আমাদের ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিন্তু নির্দেশনা দিয়েছেন যে আমাদের ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ফুটসাল গ্রাউন্ড করার জন্য।’
তিনি জানান, ফুটসাল গ্রাউন্ড তৈরির জন্য ইতিমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব মাঠ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় যেসব খালি জায়গা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো সংস্কার করে খেলার উপযোগী করার চেষ্টা চলছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক জায়গায় খেলার মাঠ দখল হয়ে আছে। এ বিষয়ে গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। উত্তরা তৃতীয় পর্বে ২৭টির বেশি মাঠ রয়েছে। বিভিন্ন ব্লকে থাকা এসব মাঠ এবং পূর্বাচলের মাঠের জায়গা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাকে একটু সময় দিন, আমি বলছি একদম আগামী এক বছরের ভেতরে, ট্রাস্ট মি, আপনারা ঢাকা শহরের যে মাঠের যে খরা, সেটা অনেকটাই আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব।’
আমিনুল হক বলেন, খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ বাস্তবায়নে শুধু যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নয়, স্থানীয় সরকার, গৃহায়ন, ভূমি, পানিসম্পদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে।
বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে খেলার মাঠের জন্য জায়গা রয়েছে, সেগুলো বুঝে নিয়ে বেড়া দেওয়া ও সংস্কারের মাধ্যমে খেলার উপযোগী করা হবে। এসব মাঠ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে, যাতে এলাকার শিশুসহ সবাই খেলাধুলার সুযোগ পায়।
আবাসন প্রকল্পে খেলার মাঠ দেখিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রির পর সেই জায়গায় ভবন নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সংশ্লিষ্ট সদস্য এবং প্রধান স্থপতিসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা ফ্ল্যাট বিক্রির সময় খেলার মাঠ দেখালেও পরে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে। এসব জায়গা চিহ্নিত করতে গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
আমিনুল হক বলেন, ‘এগুলো কোথায় কোথায় আছে, আইডেন্টিফিকেশন করে দেন, আমরা এটাকে দখলমুক্ত করার চেষ্টা করব।’