বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে ২ কোটি টাকার সোনা লুট, ৯০ লাখে বিক্রি, গ্রেফতার ৪
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে একশ’ দুই ভরি ওজনের সোনার বার ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৪ জন আসামিকে গ্রেফতার ও লুন্ঠিত সোনা বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’র একটি টিম গত মঙ্গলবার তিন জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার এবং ওই পরিমাণ টাকা উদ্ধার করে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেসব্রিফিংকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ও ট্রাফিক) মো. আতোয়ার রহমান এতথ্য জানান। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা হলো, দিনাজপুরের দক্ষিণ বাসুদেবপুর এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. সাদিকুর ইসলাম (২০), একই জেলার একই এলাকার মৃত আতোয়ার আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন (৪৩), জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভিমপুর গ্রামের আনসার আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম (২৬) ও একই উপজেলার বালিঘাটা বাজার এলাকার আমিনুল ইসলাম মুকুলের ছেলে আসাদুজ্জামান শাহিদ (২৮)।
জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, (পিপিএম) এর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবির ওসি মো. ইকবাল বাহারের তত্ত্বাবধানে এসআই মোঃ জাহাঙ্গীর করিব এবং এসআই মোহাম্মদ ফজলুল হকের নেতৃত্বে ডিবির একটি টিম পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে প্রথমে এ ঘটনায় জড়িত আসামি সাদিকুর ইসলামকে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ার তরিনয়হাট থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যমতে দিনাজপুরের হাকিমপুরের মহিলা কলেজ এলাকা থেকে আসামি আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আলমগীরের দেওয়া তথ্যমতে তার নিজ বসতবাড়িতে তল্লাশি করে সোনা বিক্রির ২৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। আলমগীর ও সাদিকুলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রযুক্তির সহায়তায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর এলাকা হতে আসামি মোঃ রবিউল ইসলাম (২৬) ও আসাদুজ্জামান শাহিদ (২৮)কেও গ্রেফতার করা হয়। এরপর ধৃত সাদেকুল ইসলাম এর বসতবাড়ী হতে লুণ্ঠিত সোনা বিক্রির ১৮ লাখ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। অপরদিকে পাঁচবিবি থানাধীন বড়মানিক গ্রামস্থ আসামি আসাদুজ্জামান শাহিদের গরুর ফার্মের অফিস কক্ষ হতে সোনা বিক্রির আরো ৪১ লাখ টাকা উদ্ধারসহ সর্বমোট ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আসামি আলমগীরের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন, মারামারিসহ ১০টি মামলা, আসামি রবিউলের বিরুদ্ধে ৩টি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এর আগে বগুড়া মহানগরের বাসিন্দা মোঃ খায়রুল ইসলাম জেলা পুলিশ সুপার এবং অফিসার ইনচার্জ শিবগঞ্জ থানা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন যে, তিনি একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। বগুড়া মহানগরের গালাপট্টি এলাকায় শাপলা জুয়েলার্স নামে তার একটি স্বর্ণের দোকান আছে। গত ৫ অক্টোবর বেলা ১১ টার দিকে তার খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেনের মাধ্যমে তিনি ২৪ ক্যারেটের ১০টি স্বর্ণের বার, যার সর্বমোট ওজন ১০২ ভরি ১২ আনাসহ জয়পুরহাট জেলায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসযোগে পাঠান। তার খালাতো ভাই মোঃ বাপ্পি হোসেন (২৭) ওইদিন বেলা ১২ টা ৫ মিনিটের দিকে বাসযোগে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের উথলি নামক স্থানে পেীঁছুলে অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন দুর্বৃত্ত পুলিশ পরিচয়ে বাস থামিয়ে বাপ্পি হোসেনকে জোড়পূর্বক বাস হতে নামিয়ে নেয় এবং হাতুড়ি দিয়ে মারপিট করে । এরপর তারা তার কাছে থাকা ২৪ ক্যারেটের ১০টি স্বর্ণের বার, যার সর্বমোট ওজন ১০২ ভরি ১২ (বারো) আনাসহ তার ব্যবহৃত ১টি মোবাইল ফোন নেয়। পরে শিবগঞ্জ উপজেলার বালা রোডের গুজিয়াহাট মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে তাকে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।
ডিবির ওসি মো. ইকবাল বাহার বলেন, ধৃত আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, তারা ১০২ ভরি সোনা লুটের পর বিভিন্ন স্থানে কমদামে বিক্রি করেছে। ৯০ ভরি সোনা তারা এক লাখ টাকা ভরি হিসাবে ৯০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছে। ৯০ লাখ টাকার মধ্যে তারা ২ লাখ টাকা খরচ করে ফেলেছে। সেইসাথে বাকি আরো ১২ ভরি সোনা তাদের সহযোগীদের কাছে রয়েছে। ওই সোনাগুলো উদ্ধারসহ জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রযেছে।এদিকে গতকাল ধৃত চার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। টাকাগুলো জব্দ তালিকা করে পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়েছে। মামলার চার্জশিট দেয়ার সময় টাকা গুলো আদালতের জিম্মায় দেয়া হবে।
মামলার বাদি মো. খায়রুর ইসলাম দৈনিক করতোয়াকে বলেন, তিনি পুরনো সোনা গলিয়ে বার তৈরি করে বিক্রি করে থাকেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে জয়পুরহাট থেকে সোনা বিক্রির একটি অর্ডার পেয়েছিলেন। গত ৫ অক্টোবর তার খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেন সোনার ১০টি বার নিয়ে বাসযোগে জয়পুরহাটে মর্ডান জুয়েলার্সে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সোনা নিয়ে যাওয়ার খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সোনাগুলো লুট হয় বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো বলেন, বাজারে ১০২ ভরি ১২ আনার সোনার মূল্য ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। কিন্তু দুর্বত্তরা সোনাগুলো মাত্র ৮৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, তাকে আদালতে আবেদন করে টাকাগুলো নিতে হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/188968