সেই ‘ভাইরাল’ পুলিশ কন্যা তামান্না এখন শ্বশুরবাড়িতে

সেই ‘ভাইরাল’ পুলিশ কন্যা তামান্না এখন শ্বশুরবাড়িতে

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ার সেই ‘ভাইরাল’ পুলিশ কন্যা তামান্না নিজ জিম্মায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সোনাপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়ি চলে গেছেন। এর আগে আদালত চত্তর থেকে তাকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয় সদর থানার পুলিশ। পরে তাকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে গতকাল সোমবার দুপুরে আদালতের আদেশে তামান্নাকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনার পর আদালত চত্তরে তার মা-বাবার সাথে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার বগুড়ার আদমদীঘি থানা আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু হেনা সিদ্দিকী এই আদেশ দেন। পরে তামান্না আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় জোড় করে তাকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন তার বাবা,মাসহ পরিবারের লোকজন।

এসময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এরপর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সদর থানায় নিরাপত্তা হেফাজতে রাখে। সদর থানার ওসি মো. ইব্রাহীম আলী বলেন, আদালত তাকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন। এরপর তিনি নিজ জিম্মায় চলে যেতে চাইলে ওই দিন রাতে থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা, তামান্না জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে সোনাপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়ি গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজন তাকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে গেছেন। তামান্না এখন শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন।

তাঁর বাবা সাবেক পুলিশ কনস্টেবল মো. রানা মাসুদ অভিযোগ করে জানান, ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে তামান্না প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় একই দিন আদমদীঘি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মো. শহিদ হোসেনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে গত ১ মে তামান্না আবার শহিদ হোসেনের সঙ্গে চলে যান।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বাবা পুনরায় অপহরণের অভিযোগ করেন। পরে ডিবি তামান্নাকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে। এরপর আদালত তাকে রাজশাহীর সেফহোমে পাঠায়। এ বিষয়ে তামান্না বলেন তাকে কেউ অপহরণ করেনি বরং তিনি নিজের ইচ্ছায় গিয়েছিলেন। তার ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় আদালত তাকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছেন।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইব্রাহীম আলী জানান, গত ২৬ অক্টোবর তাসনিয়া রানা তামান্নার  ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তাকে রাজশাহীর সেফ হোম থেকে বগুড়ার আদালতে আনা হয় । মামলার নির্ধারিত কার্যক্রম চলাকালে তাঁর বাবা-মা তাঁকে নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার আবেদন করেন। পরে, আদালত তার বাবা মায়ের আবেদন নাকচ করে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় নিজ জিম্মায় থাকার আদেশ প্রদান করেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/188858