গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ 

গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ 

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় তার পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর গোয়ালবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মোকছেদুল ইসলাম ওই গ্রামের মো. বাবলু ব্যাপারীর ছেলে।

এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মোকছেদুল ইসলামসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ছাত্রীর বাবা পরিমল বাবু। গতকাল মঙ্গলবার সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম রেজা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পরিমল বাবুর ১৬ বছর বয়সী মেয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার নতুন বন্দর বারবলদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুলে যাতায়াতের পথে মোকছেদুল তাকে উত্ত্যক্ত ও আপত্তিকর কথাবার্তা বলতেন। কোচিংয়ে যাওয়া-আসার পথেও তাকে উত্ত্যক্ত করা হতো। বিষয়টি পরিবারকে জানানোর পর পরিমল বাবু ও তার পরিবারের সদস্যরা মোকছেদুলকে সতর্ক করেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আরও বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন। এজাহারে বলা হয়, গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে মোকছেদুল পরিমল বাবুর বাড়ির সামনে গিয়ে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি দেখান।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। এরপর দুপুর ১২টার দিকে মোকছেদুল ও তার স্বজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিমল বাবুর বাড়িতে প্রবেশ করেন। তারা বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করলে বাধা দেন পরিমল বাবুর স্ত্রী মুক্তি রাণী ও ভাই মোহন চন্দ্র বর্মন। এসময় তাদের মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।

মুক্তি রাণীর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানিও করা হয়। একপর্যায়ে মোহন চন্দ্র মাটিতে পড়ে গেলে তার গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এসময় তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে তাদের সামনেই প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা চলে যান। পরে আহত মুক্তি রাণী ও মোহন চন্দ্র বর্মনকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় স্বজনরা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীরা ঘরের স্টিলের বাক্সে রাখা ৬ লাখ টাকা মূল্যের আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার এবং জমি কেনার জন্য কাঠের শোকেসের ড্রয়ারে রাখা ৯ লাখ টাকা নিয়ে যান। এছাড়া ঘরের দরজা ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আনুমানিক দেড় লাখ টাকার ক্ষতি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন পরিমল বাবু।

সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম রেজা বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/188856